বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ত্রাণ দেওয়ার নামে চলছে পর্যটন, ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকায় উঠল দেদার অভিযোগ
ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত সুন্দরবন–সহ সংলগ্ন এলাকা।
ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত সুন্দরবন–সহ সংলগ্ন এলাকা।

ত্রাণ দেওয়ার নামে চলছে পর্যটন, ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকায় উঠল দেদার অভিযোগ

  • অনেকে আবার বলছেন, এই ত্রাণ বিলির নামে সুন্দরবনে ভ্রমণে আসছেন কিছু মানুষ। এই অভিযোগ উঠছে সুন্দরবনের নানা প্রান্তে।

একদিকে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত সুন্দরবন–সহ সংলগ্ন এলাকা। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের ব্যাপক দাপট। এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ নিয়ে আসছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। এখন তাঁদের জীবনে ত্রাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ মানুষ আসায় ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ফলে তৈরি হয়েছে আতঙ্কও। অনেকে আবার বলছেন, এই ত্রাণ বিলির নামে সুন্দরবনে ভ্রমণে আসছেন কিছু মানুষ। এই অভিযোগ উঠছে সুন্দরবনের নানা প্রান্তে। করোনাকালে এত মানুষের সমাগম রুখতে পদক্ষেপও শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকালই শ’‌দেড়েকের একটি দল ত্রাণ বিলি করতে আসে গোসাবায়। তখন তা দেখতে পেয়ে ভুটভুটি দাঁড় করিয়ে সতর্ক করেন গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র।

ইয়াস দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুকনো খাবার, জল, চাল, ডাল–সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন তাঁরা। অভিযোগ, এই ত্রাণ বিলির নামে অনেকেই সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন। তাই যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘাটে ঘাটে পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

নদীতে সতর্কতামূলক মাইকিং চলছে। এখানেই যাত্রীতে ভর্তি একটি ভুটভুটি দেখে আটকান গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন আসেন গোসাবায় ত্রাণ দিতে। ত্রাণ দিতে লোকবল প্রয়োজন। তাই এত লোক নিয়ে এসেছেন বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু বিডিও বলেন, ‘‌এতগুলি মানুষ একসঙ্গে একটি ভুটভুটিতে উঠলে বিপদ হতে পারে। তার উপর করোনা পরিস্থিতির কথাও মাথায় রাখতে হবে। তাই ওদের সতর্ক করা হল।’‌ আর জাহাঙ্গির বলেন, ‘‌এই এলাকার মানুষ কষ্টে আছেন। তাই আমরা এঁদের সাহায্য করতে ত্রাণ দিতে এসেছি।’‌

কিন্তু এত মানুষের একসঙ্গে আসা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রশাসনের একাংশ। সম্প্রতি সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বিধিননিষেধ মেনে ত্রাণ দিতে আসা এক–একটি দলে পাঁচজনের বেশি যাতে না থাকেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। গোসাবার বিডিও অবশ্য জানান, এখনও কোনও নির্দোশিকা আসেনি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক সমাগম আটকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্ধ করুন