বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘আর পারছি না, বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই’, চোখের জলে আর্তি সরকারি সেফহোমের আবাসিকের
প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

‘আর পারছি না, বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই’, চোখের জলে আর্তি সরকারি সেফহোমের আবাসিকের

  • তিনি বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত সেফ হোমের আবাসিকদের কিছু খেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী জলটুকুও পাচ্ছেন না তাঁরা।

ক্ষিদের জ্বালায় সাংবাদিকের কাছে কাঁদতে কাঁদতে বিষ চাইছেন এক উপসর্গহীন করোনা রোগী। বলছেন, ‘আর পারছি না। আমাকে বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই।’ এমনই চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা গেল কলকাতায়। ইএম বাইপাসের ধারে একটি সংবাদমাধ্যমের নির্মিয়মাণ দফতরে তৈরি সেফ হোমের আবাসিকরা খাবার ও জলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের বাধা দেন সেফ হোমের আধিকারিক। 

সেফ হোমের এক আবাসিক নিজেকে রামকৃষ্ণ মাইতি বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, কলকাতা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে পাড়া থেকে বার করে দিয়েছে। ফলে সেফ হোমে রয়েছেন তিনি। কোনও উপসর্গ না থাকলেও স্ত্রী, সন্তান ও মা কে ছেড়ে থাকতে হচ্ছে সেফ হোমে। আর সেখানে খাবার ও জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাই করেনি প্রশাসন। 

তিনি বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত সেফ হোমের আবাসিকদের কিছু খেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী জলটুকুও পাচ্ছেন না তাঁরা। শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন। সেখান থেকে অন্য সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে থাকতে হচ্ছে সেখানে। 

এসব বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রামকৃষ্ণবাবু। বলেন, ‘আমরা আর পারছি না। আমাদের বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই।’ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেন সেফ হোমের এক আধিকারিক। এর পর বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আবাসিকরা। অবশেষে বেলা ১১টা নাগাদ তাঁদের জন্য কলা ও বিস্কুটের ব্যবস্থা করে প্রশাসন।

 

বন্ধ করুন