বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কলেজে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব RSS প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন
প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

কলেজে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব RSS প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন

  • সংগঠনের সহ-সভাপতি সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘SACT শুধুমাত্র নিয়োগ দুর্নীতির বিষয় নয়, এর সাথে জড়িত রাজ্যের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ।

যোগ্যতামানের সঙ্গে আপোস করে পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতায় UGC-র ২ পূর্বাঞ্চলীয় কর্তাকে স্মারকলিপি দিল শিক্ষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সংঘ (জাওগস)। মঙ্গলবার বিধাননগরে UGC-র পূর্বাঞ্চলীয় দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন সংগঠনের নেতারা। সংগঠনটির দাবি, কোনও মূল্যায়ণ না করে কলেজ শিক্ষক পদে দলের ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা।

সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৯ অগাস্ট হাওড়ায় একটি প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, রাজ্যের অস্থায়ী শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ হবে ৬০ বছর। প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে বেতনবৃদ্ধি হবে তাঁদের। সঙ্গে অবসরকালে ৫ লক্ষ টাকা এককালীন ভাতা পাবেন তাঁরা। ওই বছর শেষের দিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রেক্ষিতে নির্দেশিকা প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। 

নির্দেশিকা অনুসারে অস্থায়ী কলেজ শিক্ষকদের ভাগ করা হয় ২ ভাগে। প্রথম ভাগে রাখা হয় UGC নির্ধারিত মান অনুসারে কলেজ শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে যাদের। আর দ্বিতীয় ভাগে রাখা হয় UGC নির্ধারিত যোগ্যতামান নেই এমন শিক্ষকদের। 

জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সংঘের দাবি, নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলে দেখা যায় যোগ্যতামান নেই এমন শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি। সংগঠনটির দাবি, রাজ্যের কলেজগুলির দখল রাখার জন্য বাম আমল থেকে SACT-এর নামে অযোগ্যদের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ শুরু হয়েছিল। সেই ধারাকেই নিয়মে পরিণত করে ফেলে তৃণমূল সরকার। কলেজগুলির পরিচালন সমিতিতে থাকা শাসকদলের নেতারা কোনও পরীক্ষা না নিয়েই ঘনিষ্ঠদের কলেজে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমনকী এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণবিধিও মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 

বিষয়টি আগেই কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ নিশাঙ্ক পোখরিয়ালের গোচরে এনেছে জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সংঘ। এর পর গত ৯ অক্টোবর রাজ্য সরকারের কাছে এব্যাপারে ব্যাখ্যা তলব করে। তবে বিষয়টি থিতিয়ে যেতে দিতে নারাজ সংগঠনটি। তাই মঙ্গলবার ফের UGC-র পূর্বাঞ্চলীয় শাখার উপ-সচিব অজয় কুমাপ খান্দুরি ও উপ-সচিব অমল এম আন্ধেরেকে স্মারকলিপি দেয় তারা। সংগঠনের সহ- সভাপতি সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘SACT শুধুমাত্র নিয়োগ দুর্নীতির বিষয় নয়, এর সাথে জড়িত রাজ্যের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ। অযোগ্য শিক্ষকরা কলেজগুলিতে কি উপযুক্ত শিক্ষা দান করতে সক্ষম? না কি তাঁরা শাসকদলের হয়ে কলেজগুলি দখলে রাখার জন্য নিয়োজিত হয়েছেন? এই রকম চলতে থাকলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। কলেজগুলি পার্টি ক্যাডার তৈরির কারখানাতে পরিণত হবে।’

 

বন্ধ করুন