বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মমতার কথায় স্পষ্ট দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূলের শীর্ষনেতারাও, একযোগে সরব বিরোধীরা
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি

মমতার কথায় স্পষ্ট দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূলের শীর্ষনেতারাও, একযোগে সরব বিরোধীরা

  • যাদের চাকরি গিয়েছে তাদের আমি বলব, সোজা গিয়ে তৃণমূল নেতাদের কলার ধরুন। মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছে আগামী দিন খুব খারাপ আসতে চলেছে তাই এই সব উলটো পালটা বকছে, বললেন কৌস্তভ বাগচী

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে একযোগে আক্রমণ করল বাম – কংগ্রেস ও বিজেপি। সমস্বরে তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের শীর্ষস্তরও এই দুর্নীতিতে যুক্ত। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী ভুল বকছেন বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী।

এদিন সিপিএম নেতা তথা বরিষ্ঠ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির পক্ষে দাঁড়াবেন এটা খুব স্বাভাবিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস বা নৈতিকতা ওনার নেই। আদালতের নির্দেশে তদন্ত হচ্ছে। এই সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলা মানে আদালতকে চ্যালেঞ্জ করা। প্রত্যেকটা নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তিনি চান বা না চান, আদালতের নির্দেশে নিয়োগ বাতিল হবে। যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মন কাঁদছে। কিন্তু যারা চাকরি পাননি তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কোনও সহমর্মিতা নেই। এই ধরণের একটা চূড়ান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ যখন প্রশাসনের মাথায় থাকেন তখন বুঝতে হবে রাজ্যের মানুষের কপালে অশেষ ভোগান্তি রয়েছে। অবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে বিদ্রোহ হওয়া উচিত’।

কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী বলেন, ‘যাদের চাকরি যাবে তারা তৃণমূল নেতাদের কলার ধরবে। এটা বুঝতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এর আগেও আমরা দেখেছি এর আগে সারদা মামলার সময় মুখ্যমন্ত্রী ‘আমরা সবাই চোর’ বলে মিছিল করেছিলেন। সেই মুখ্যমন্ত্রী চোরেদের পাশে দাঁড়াবেন এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। গোটা দলটাই চোর – ডাকাতে ভর্তি। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে চোর ডাকাতদের পাশে দাঁড়াতেই হবে। নাহলে দল ভেঙে পড়বে।

তাঁর মতে, ‘যা হচ্ছে কোর্টের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কে এসব বলার? কোর্টের নির্দেশে কারও চাকরি গেলে মুখ্যমন্ত্রী কী করতে পারেন? যাদের চাকরি গিয়েছে তাদের আমি বলব, সোজা গিয়ে তৃণমূল নেতাদের কলার ধরুন। মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছে আগামী দিন খুব খারাপ আসতে চলেছে তাই এই সব উলটো পালটা বকছে।’

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আজ যা বলেছেন তা আদালত অবমাননার সামিল। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এতে মদত দিচ্ছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী এই গোটা দুর্নীতির কথা জানতেন। এই দুর্নীতি পার্থ চট্টোপাধ্যায় করেননি। দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূলের ওপরতলার নেতারা। তৃণমূলের ওপরতলায় এর টাকা গিয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী মেনে নিলেন এই দুর্নীতির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি জড়িত’।

 

বন্ধ করুন