বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > Kailash Vijayvargiya Exclusive: ভোটে হেরেও মানুষের মন জিতেছে BJP,হতাশার কিছু নেই
রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

Kailash Vijayvargiya Exclusive: ভোটে হেরেও মানুষের মন জিতেছে BJP,হতাশার কিছু নেই

  • গত ৭ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে দল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন কৈলাস। তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভায় কেন তার পুনরাবৃত্তি হল না? হিন্দুস্তান টাইমসকে তার ব্যাখ্যা দিলেন কৈলাস।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতে না পারলেও আমাদের ফল হতাশাজনক নয়। আমরা একক বিরোধী দল হিসাবে উঠে এসেছি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর হিন্দুস্তান টাইমসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনই জানালেন বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

গত ৭ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে দল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন কৈলাস। তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভায় কেন তার পুনরাবৃত্তি হল না? হিন্দুস্তান টাইমসকে তার ব্যাখ্যা দিলেন কৈলাস। 

এত বছর ধরে এত প্রস্তুতির পর একটা টানটান নির্বাচনে লড়লেন আপনারা, ভুলটা কী হল?

কংগ্রেস ও সিপিআইএম তৃণমূলের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করায় বিজেপি হেরেছে। বিজেপিকে রুখতে তারা নির্বাচনে ঠিক মতো লড়াইটুকুও করেনি। ফলে রাজ্যে ২টি রাজনৈতিক মেরু সৃষ্টি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে এক হতে বলে চিঠি দিয়েছেন। এর পর করোনা আবহের কারণ দেখিয়ে প্রচারে আসেননি। অধীর চৌধুরী ও সিপিএমের একাধিক নেতা ঘর থেকে বেরোননি। 

আরেকটা কারণ হল, মুসলিম ভোটের সম্পূর্ণ মেরুকরণ হয়েছে। একদিকে আমাদের বিরুদ্ধে যখন মেরুকরণের অভিযোগ করা হয় তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মুসলিমদের একজোট হতে বলেছেন। 

বিজেপিও হিন্দু ভোটকে একজোট করতে চেয়েছিল। তাই সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। 

বাঙালি জাতিসত্ত্বা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুইলচেয়ারে বসে থাকার দৃশ্য মহিলাদের মনে সমবেদনা তৈরি করে থাকতে পারে। মহিলা ভোটররা তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেওয়াও একটা কারণ। 

কিন্তু নেতৃত্বের অভাব কি কোনও কারণ নয়? আপনাদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প কোনও মুখ ছিল না। 

হারের অন্যান্য কারণের মধ্যে এটাও একটা কারণ হতে পারে। আমি অস্বীকার করছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিনারপ্রম নেতৃত্বের সামনে আমাদের তুলে ধরার মতো স্থানীয় কোনও নেতা ছিলেন না। 

 

বিজেপি রাজ্যে নিজেদের কর্মী তৈরির বদলে দলবদলকারীদের প্রাধাণ্য দিয়েছে বলে অভিযোগ…

রাজ্যের ৮০ শতাংশ বুথে আমাদের কর্মী রয়েছে। তাদের সৌজন্যেই আমরা ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি। বাংলায় আমরা একটা জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। কোনও রাজ্যের একক বৃহত্তম বিরোধী দল হওয়া কোনও মুখের কথা নয়। আমরা রাজ্য রাজনীতিতে একটা শূন্যতা পূরণ করেছি। আমরা হয়তো সরকার গঠন করতে পারিনি, কিন্তু অনেকটা এগিয়েছি। এই ফল হতাশাজনক নয়। আমরা ভাল ভোট পেয়েছি এবং আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটদানের ধরণ দেখলে বুঝতে পারবেন, রাজ্যে এখন ২টো রাজনৈতিক দলই রয়েছে। 

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যে নেতিবাচক প্রচার ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ব্যক্তিগত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়নের ইস্যুগুলির ওপর নজর না দিয়ে জয় শ্রী রামকে প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছিল। এ নিয়ে কী বলবেন?

এটা ঠিক নয়, আমরা রাজ্যে খুবই আশাবাদী প্রচার করেছি। রাজ্যের উন্নয়নের ইস্যুগুলিতেও আমাদের নজর ছিল। আমাদের ইসতেহার দেখুন, মানুষের বাড়িবাড়ি যে সব লিফলেট বিলি করা হয়েছে সেগুলো দেখুন। তাতে আমরা উন্নয়নের কথাই বলেছি। অবশ্যই আমরা তাতে দুর্নীতির কথাও বলেছি। সেগুলোও বলার দরকার ছিল। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিল্পায়ন নিয়েও বলেছি। কিন্তু নেতিবাচক জিনিসগুলো বেশি প্রচারে এসেছে। মুসলিম ভোটের মেরুকরণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয় শ্রী রাম মেরুকরণের মন্ত্র নয়। বিজেপির সমস্ত অনুষ্ঠানে এই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকে। 

 

বিজেপি বলে এসেছে, বাংলার নির্বাচনের ফলের প্রভাব সারা দেশের অন্যান্য রাজ্যেও পড়বে। আপনারা কি উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাবের মতো রাজ্য নিয়ে চিন্তিত?

আপনি যদি সার্বিক ভাবে দেখেন তাহলে দেখবেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ফল হতাশাজনক নয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গে অনেকটা শক্তিলাভ করেছি। পাঁচ বছর আগে আমাদের মাত্র ৩ জন বিধায়ক ছিলেন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে খুঁজে পাওয়া যেত না। যে রাজ্য একসময় বামেদের দুর্গ ছিল, কংগ্রেস – তৃণমূল এত শক্তিশালী, সেখানে আমরা এখন মূলধারার রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছি।  আমরা একটা বিশাল জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। আমরা আগামীর রাজনৈতিক দল। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলের প্রভাব অন্য কোথাও পড়বে না। বাংলার সংস্কৃতি, সংস্কার ও রাজনীতির ধরণ আলাদা। 

আমরা হেরেও জিতেছি। তবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় ছিল তার কাছে পৌঁছতে পারিনি। তাই বলে আমরা সব কিছু হারাইনি। আমরা সরকার গড়তে পারিনি কিন্তু মানুষের মনে জায়গা পেয়েছি। আমরা হতাশ নই। একক বৃহত্তম বিরোধী দল হয়ে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি আমরাই ভবিষ্যৎ। 

 

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও বিজেপি নেতারা লাগাতার সভা করে গিয়েছেন। আপনার কি মনে হয় ভোটের ফলে তার প্রভাব পড়েছে? 

 

নির্বাচন যখন ঘোষণা হয়েছিল তখন করোনার এত বাড়াবাড়ি শুরু হয়নি। আর নির্বাচন একবার ঘোষণা হয়ে গেলে আর বন্ধ করার কোনও উপায় থাকে না। নির্বাচনে প্রচার করা প্রার্থীর মৌলিক অধিকার। আমরা কী করে দফা কমাতে পারি? দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারত নির্বাচন কমিশন।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। কমিশনকে বিজেপির সহকারী বলে মন্তব্য করেছেন, কী বলবেন?

এটা তাঁর একটা কৌশল। তিনি সব সময় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিজেপির সহকারী বলে প্রচার করেন। এমনকি কোনও নজির রয়েছে যে কমিশন আমাদের সাহায্য করেছে কিন্তু ওদের করেনি? তৃণমূল নেতাদের নিষিদ্ধ করলে আমাদের নেতাদেরও নিষিদ্ধ করেছে কমিশন। তিনি এই নিয়ে আদালতে গেলে কী প্রমাণ পেশ করবেন?

বিরোধী দলনেতা কে হবেন?

দলের সংসদীয় বোর্ড ও জনপ্রতিনিধিরা সেটা ঠিক করবেন। 

বন্ধ করুন