বাড়ি > বায়োস্কোপ > 'পোশাক বদলানোর জন্য মহিলা পাইলটদের ঘরে পালাতে হয়নি': IAF প্রথম মহিলা ব্যাচের প্রশিক্ষক
জাহ্নবী কাপুর (ছবি -ইনস্টাগ্রাম)
জাহ্নবী কাপুর (ছবি -ইনস্টাগ্রাম)

'পোশাক বদলানোর জন্য মহিলা পাইলটদের ঘরে পালাতে হয়নি': IAF প্রথম মহিলা ব্যাচের প্রশিক্ষক

  • এবার ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ব্যাচের প্রশিক্ষক আইকে খান্না ক্ষোভ উগরে দিলেন জাহ্নবী কাপুরের ‘গুঞ্জন সাক্সেনা : দ্য কার্গিল গার্লের বিরুদ্ধে’।

বিতর্ক থামছে না করণ জোহর প্রযোজিত ‘গুঞ্জন সাক্সেনা : দ্য কার্গিল গার্ল’ নিয়ে। যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়া প্রথম মহিলা উইং কমান্ডারের বায়োপিকে লিড চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী কাপুর। তবে ছবির ট্রেলার সামনে আসবার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এই ছবি। IAF-এর তরফে থেকেও এই ছবির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা রীতিমতো চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছে সেন্সার বোর্ড এবং ছবির স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের কাছে। অভিযোগ এই ছবিতে ভারতীয় বায়ুসেনার ভাবমূর্তি অযাচিতভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসার তথা গুঞ্জন সাক্সেনার সহকর্মী নমরিতা চাণ্ডী, শ্রীবিদ্যা রাজন আগেই এই ছবিতে দেখানো লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, বলেছেন ছবিতে দেখানো বহু তথ্য বিভ্রান্তিমূলক এবং মিথ্যা। এবার একই সুর প্রতিধ্বনিত হল ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন উইং কমান্ডার আইকে খান্নার গলায়। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা পাইলট দলের প্রশিক্ষক আইকে খান্না। সম্প্রতি দ্য প্রিন্টের জন্য লেখা নিজের কলামে তিনি দাবি করেন ‘গুঞ্জন সাক্সেনা : দ্য কার্গিল গার্ল’ ছবিতে যা দেখানো হয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় বায়ুসেনার যে ভাবমূর্তি তুলে ধরা হয়েছে তা মিথ্যা । অন্তত এমন কোনও ঘটনা তাঁর জানা নেই বলেই দাবি করেন এই প্রাক্তন বায়ুসেনার প্রশিক্ষক ।

অফিসার খান্নার বক্তব্য অনুসারে , ১৯৯৪ সালে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার প্রশিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন । সেই সময় ৭ জন মহিলা পাইলটের একটি দল বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কাতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলেন । তিনি বিস্মিত প্রকাশ করেছেন কি ভাবে ছবির স্ক্রিপ্ট ভারতীয় বায়ুসেনাকে একবারও না দেখিয়ে বা বিন্দুমাত্র সংশোধন না করে ছবিটিকে মুক্তি দেওয়া হল! তিনি লিখেছেন , ' আমার অধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেক পাইলট সমান মর্যাদা পেতেন এবং  যেভাবে পোশাক পরিবর্তনের জন্য ছবিতে গুঞ্জনকে পুরুষ অফিসারদের সামনে দিয়ে একপ্রকার পালিয়ে ঘরে যেতে হয়েছে , তেমন কোনও ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি ' ।

এছাড়াও খান্না এই প্রসঙ্গে ফ্লাইং অফিসার হরিতা কাউর দেওল ( যিনি পরবর্তীকালে ফ্লাইং অফিসার হরিতা দেওল নামে সমধিক পরিচিত হন ) যিনি একজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কার্যে ব্যবহৃত বায়ুসেনা বিমান উড়িয়েছিলেন , সেই কাজটি গুঞ্জনকে ছবিতে করতে দেখা গিয়েছে । সেই ট্রেনিং -এ মাঝ আকাশে বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে আবার চালু করাটাই অভ্যাস করতে হয় । ' আমার এখনো মনে আছে যখন হরিতা ইন্সট্রাক্টরের নির্দেশ অনুসরণ করে কাজটি করছিলেন , তখন তাঁর চেয়ে ওই সাংবাদিককে ভয়ে উৎকণ্ঠায় অনেক বেশি ঘামতে দেখা গিয়েছিলো ' জানান প্রাক্তন এই বায়ুসেনা প্রশিক্ষক ।

তাঁর মতে ' লিঙ্গ বৈষম্য আমাদের সমাজে বিদ্যমান তা কারোর অজানা নয় । কিন্তু বায়ুসেনায় কখনোই এই বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়না । মহিলারা সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োজিত হচ্ছেন । ' আমি বিস্মিত সেই বৈষম্যকেই প্রমাণ করতে কীভাবে একজন পুরুষ অফিসারের সাথে পাঞ্জা লড়তে বাধ্য করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে ছবিতে ', লিখেছেন খান্না ।

প্রাক্তন বায়ুসেনার মহিলা পাইলট , গুঞ্জন সাক্সেনার ব্যাচ মেইট শ্রী বিদ্যা রাজন দাবি করেছেন গুঞ্জন নন , তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা পাইলট যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান নিয়ে উড়ে গিয়েছিলেন । তাঁর মতে ‘ গুঞ্জনকে যেভাবে একমাত্র মহিলা বায়ুসেনার পাইলট হিসেবে বিমান নিয়ে কার্গিলে উড়ে যেতে দেখানো হয়েছে ছবিতে , তা সম্পূর্ণ ভুল । আমাদের একসঙ্গে পোস্টিং হয়েছিল উধমপুরে । কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে আমি প্রথম আমাদের পুরুষ অফিসারদের সাথে কার্গিলের উদ্দেশ্যে যাওয়া সেনার সঙ্গে আমাকে প্রথম পাঠানো হয়েছিল'।

তবে এই বিতর্ক নিয়ে কী বলছেন স্বয়ং গুঞ্জন সাক্সেনা?

 সম্প্রতি এনডিটিভির জন্য লেখানিজের কলামে গুঞ্জন জানান, বায়ুসেনায় আট বছর কাটানোর সময় তিনি একাধিক 'প্রথম'-এর নজির গড়েছেন। প্রথম মহিলা হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে উড়েছেন, জঙ্গল ও বরফে বেঁচে থাকার প্রশিক্ষণ করেছেন। এছাড়াও আরও অনেক 'প্রথম'-এর অধিকারী তিনি। গুঞ্জন দাবি করেন, একটি অংশ থেকে যে বলা হচ্ছে, তিনি কার্গিল যুদ্ধে প্রথম মহিলা পাইলট ছিলেন না, তা সর্বৈব্ব মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, কীভাবে কেউ অস্বীকার করতে পারেন যে তিনি কার্গিল যুদ্ধে ‘প্রথম’ মহিলা অফিসার ছিলেন না?

তবে সিনেমায় বায়ুসেনায় লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে আবার গুঞ্জনের গলায় কিছুটা নরম সুর শোনা গিয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে বায়ুসেনার মতো প্রতিষ্ঠানের উপর কোনও দাগ পড়বে না বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসার। তিনি লেখেন, ‘যাঁরা IAF-এর রেপুটেশন নিয়ে এত চিন্তিত তাঁদের আমি জানাতে চাই, যে IAF একটা বিশাল বড় প্রতিষ্ঠান এবং এই ফোর্সের সম্মান সুবিশাল-তাই এই বিতর্কের কোনওরকম প্রভাব তাঁদের উপর পড়বে না।

বন্ধ করুন