বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > REKKA: রহস্যময়ী ‘মুসকান জুবেরী’র গল্প বললেন সৃজিত, টলিউডের বড় পাওনা বাঁধন
মুক্তি পেল রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেনি
মুক্তি পেল রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেনি

REKKA: রহস্যময়ী ‘মুসকান জুবেরী’র গল্প বললেন সৃজিত, টলিউডের বড় পাওনা বাঁধন

হইচই-তে মুক্তি পেল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন সিরিজ 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি'। কেমন হল REKKA?

হাইওয়ের ধারে রবীন্দ্রনাথের লেখা ও ছবি দিয়ে সাজানো, এক সুদৃশ্য রেস্তরাঁ- তার নাম আরও বেশি চমকে দেয় ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’। বাংলাদেশি লেখক মহম্মদ নাজিমউদ্দিনের লেখা সর্বাধিক বিক্রিত থ্রিলার উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে এই সিরিজ তৈরি করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। নেটফ্লিক্সের অ্যান্থোলজি সিরিজ ‘রে’-র পর ফের একবার ওটিটি-তে 'হোম-ম্যাচ' (পড়ুন বাংলা ভাষার কনটেন্ট) খেললেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। 

মূল উপন্যাসের সঙ্গে Hoichoi-এর এই সিরিজে কাহিনিতে বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। গল্প, প্লট মোটামুটি একই রেখেছেন পরিচালক। শুধু নূরে ছফার নাম পালটে হয়েছে নিরুপম চন্দ (রাহুল বোস)। এই উপন্যাস আগে থেকে যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের কাছে এই সিরিজ অন্যরকম অভিজ্ঞতা, যারা মহম্মদ নাজিমউদ্দিনের লেখনির সঙ্গে পরিচিত নন তাঁরা এক্কেবারে ফ্রেশ মাইন্ডে এই সিরিজ দেখবেন। থ্রিলারধর্মী চিত্রনাট্য হওয়ায় কাহিনি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা (যাঁরা উপন্যাস পড়েননি তাঁদের কথা মাথায় রেখে) কাম্য নয়। তবে ন এপিসোডের এই সিরিজে থ্রিলারে টানটান রসদ মজুদ রয়েছে।

সিরিজের শুরুতেই রয়েছে এক বিমান দুর্ঘটনার দৃশ্য, সেই অন্ধকারের মধ্যে থেকে কেউ যেন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে- এই দৃশ্যের রহস্যের বাঁধনই আপনাকে বাকি সাড়ে চার ঘন্টা আপনার টিভি স্ক্রিন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনের সঙ্গে বেঁধে রাখবে।

বাংলাদেশের সুন্দরপুরের এক খ্যতনামা রেস্তোরাঁ- ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’ ও তাঁর রহস্যময়ী মালকিন মুসকান জুবেরীকে কেন্দ্র করেই এই সিরিজ। এই রহস্যময়ী রূপবতীর জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ গোটা বাংলা, কিন্তু এর পিছনের রহস্যটা কী? কেন মুসকান জুবেরীর এক ফোন করে এমএলএ থেকে এসপি সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠেন? 

রেঁস্তোরার জনপ্রিয়তার কারণ খুঁজতে আসে ‘মহাকাল’ পত্রিকার সাংবাদিক নিরুপম। এরপর পুলিশের সোর্স আতর আলী (অনির্বাণ ভট্টাচার্য) মুসকান সম্পর্কে অদ্ভুত সব তথ্য দিতে থাকে নিরুপমকে। আতরের কথায়, মুসকান মানবী নয়, সে এক ‘রক্তচোষা ডাইনি’। সত্যি কি মুসকান মানুষ নয়? কোনও অশরীরী আত্মা? নিরুপমের আগমনে বিচলিত মুসকান যখন পুলিশকে নিরুপম সম্পর্কে খোঁজ লাগাতে বলে তখন জানা যায় সেও আদতে নিরুপম নয়। তবে নিরুপম কে? মুসকানের মতো সেও কি এক প্রহেলিকা? এই রহস্যের জটই ধীরে ধীরে খুলেছে সিরিজ জুড়ে।

এই প্রথমবার টলিউডের দর্শক দেখল আজমেরী হক বাঁধনকে। দুলহাভাই সৃজিতের হাত ধরে টলিপাড়ায় পা রাখলেন বাঁধন। এই সিরিজের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি তাঁর অভিনয়। মুসকানের চরিত্রে ডিসটিংশন নিয়ে পাশ করেছেন বাঁধন। তাঁর উপস্থিতিই পর্দায় মিস্ট্রি তৈরি করেছে। জয়া আহসানের পর বাঁধনকেও এরপর নিয়মিত কলকাতার পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে দেখলে অবাক হবেন না। 

 রেঁস্তোরার নাম ছাড়া সিরিজের আরও এক অংশ জুড়ে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, সেটি হল গান। জয়তী চক্রবর্তীর গাওয়া রবি ঠাকুরের ডজন দেড়েক গান রয়েছে এই সিরিজে। প্রতিটির ব্যবহার তাত্পর্যপূর্ণ।

মুসকান, আতর আলি ও নিরুপম ছাড়া এই সিরিজের অপর দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অঞ্জন দত্ত ও অনির্বাণ চক্রবর্তী। রবীন্দ্রনাথ ছাড়া এই সিরিজ (বা উপন্যাস যাই বলুন)-এর দুটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘ক্যানিবলিজম’ এবং ‘অমরত্বের সন্ধান’। সেই বিষয়টি জানতে হইচই অ্যাপে দেখতে হবে এই সিরিজ।

বন্ধ করুন