বাড়ি > ঘরে বাইরে > সেরে ওঠার পরও থাবা বসাতে পারে করোনা, তবে বিপদ কার্যত শূন্য, থাকে না উপসর্গও
সেরে ওঠার পরও থাবা বসাতে পারে করোনা, তবে বিপদ ঢের কম, থাকে না উপসর্গও (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
সেরে ওঠার পরও থাবা বসাতে পারে করোনা, তবে বিপদ ঢের কম, থাকে না উপসর্গও (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

সেরে ওঠার পরও থাবা বসাতে পারে করোনা, তবে বিপদ কার্যত শূন্য, থাকে না উপসর্গও

  • দ্বিতীয়বার সংক্রমণ আটকানো না গেলেও ক্ষতির মুখ থেকে বেঁচে যাবে শরীর।

মার্চে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন হংকংয়ের এক যুবক (৩৩)। ১৪২ দিন পর ইউরোপ ভ্রমণের সময় ভাইরাসের অপর একটি প্রজাতির দ্বারা সংক্রমিত হন। 'জেনেটিক্স সিকোয়েন্সিং'-এর মাধ্যমে গবেষকরা জানতে পারেন, মার্চের থেকে জিনগতভাবে আলাদা একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ছেন যুবক।

‘ক্লিনিকাল ইনফেকশাস ডিজিজ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, এমনিতে সুস্থ থাকলেও তাঁর কাশি ও কফ হয়েছিল এবং প্রথমবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার সময় তাঁর তিনদিন ধরে গলাব্যথা ছিল। মাথা যন্ত্রণা হচ্ছিল। তবে অগস্টে তাঁর কোনও উপসর্গ ছিল না।

সেই গবেষণা প্রকাশের পরই নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, তাহলে কোনও সুস্থ রোগী দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হতে পারেন? গবেষণা অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। কিন্তু তীব্র সংক্রমণের এক-দু'মাস পর থেকে অ্যান্টিবডির সংখ্যা কমতে থাকে।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আরটিপিসিআরে টেস্টে কম 'ভাইরাস শেডিং' (যখন আক্রান্ত রোগীর থেকে ভাইরাস বেরিয়ে যায়) ধরা পড়ায় রোগী সেরে ওঠার কয়েক সপ্তাহ পরও রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আগে দক্ষিণ কোরিয়া, চিন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তি বা মহিলারা কয়েক সপ্তাহ পরে আবারও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগের সংক্রমণের মৃত ভাইরাস চিহ্নিত হওয়ায় নয়া টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহিলাকে অসুস্থ করবে না বা অন্যদের দেহে সংক্রমিত হবে না।

হংকংয়ের যুবকের ক্ষেত্রেও জিনগত গবেষণা থেকে উঠে এসেছিল যে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু তখন আক্রান্তদের কোনও উপসর্গ দেখা যাওয়া বা অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো ঘটনা সামনে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ জিয়োনমিক্স অ্যান্ড ইন্ট্রেগ্রেটিভ বায়োলজি’-র অধিকর্তা অনুরাগ আগরওয়াল বলেন, ‘আমরা এখন পুনরায় সংক্রমণের কেস দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা সত্যিকারের কোনও দ্বিতীয় সংক্রমণের হদিশ পায়নি, যেখানে প্রথমবারও (রোগীর) উপসর্গ আছে, দ্বিতীয়বারও উপসর্গযুক্ত তিনি। সত্যিকারের কোনও দ্বিতীয়বার সংক্রমিত কোনও রোগীর এখনও খোঁজ মেলেনি। যাঁদের দু'বারই উপসর্গ আছে।’

‘পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি কে শ্রীনাথ রেড্ডি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে করোনাভাইরাস চিহ্নিত করার যে উপায়, তা দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় মেমোরি চিপের মতো জমা রাখে ‘বি’ এবং 'টি' সেল। পরবর্তী তিন মাসে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমলেও নয়া সংক্রমণ হানা চালাতে এলেই তৎক্ষণাৎ চিহ্নিত করে ফেলে ‘বি’ সেল। তার ফলে নয়া সংক্রমণকে রোখার জন্য দ্রুত সুরক্ষাবর্ম তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ দ্বিতীয়বার সংক্রমণ আটকানো না গেলেও ক্ষতির মুখ থেকে বেঁচে যাবে শরীর। 

একই কথা বলেছে ‘মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’। সংস্থার নয়া নির্দেশকা অনুযায়ী, করোনা থেকে সেরে ওঠা কোনও ব্যক্তি বা মহিলা যদি প্রাথমিক সংক্রমণের তিন-চারমাসের মধ্যে আবার টেস্ট করিয়ে থাকেন, তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসতেও পারে। কারণ তাঁদের দেহে তিন-চার মাস কমমাত্রায় ভাইরাস থেকে যেতে পারে। তবে তিনি করোনা ছড়াতে পারবেন না।

করোনা থেকে সেরে ওঠার পরও অবশ্য সবাইকে যাবতীয় সুরক্ষা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব পালন, হাত ধোওয়া, মাস্ক পরতে হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বন্ধ করুন