বাড়ি > ঘরে বাইরে > বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ছাড়াল ১ কোটি, মে-জুনেই সংক্রমিত দুই-তৃতীয়াংশ
বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ছাড়াল ১ কোটি (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এপি)
বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ছাড়াল ১ কোটি (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এপি)

বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ছাড়াল ১ কোটি, মে-জুনেই সংক্রমিত দুই-তৃতীয়াংশ

  • জুনে প্রতিদিন গড়ে ১.২৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

ক্রমশ খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি। একটা সময় করোনাভাইরাসের সবথেকে প্রভাবিত দেশগুলি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও কয়েকটি দেশে সেই ভাইরাসের দাপট এখনও অব্যাহত। তার জেরে বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি করল। মৃত্যুও ছাড়িয়ে গেল পাঁচ লাখ। এমনটাই জানাচ্ছে Worldometre-এর পরিসংখ্যান।

ওই সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় সময় অনুযায়ী রবিবার সকাল ন'টা পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০,০৮১,৫৪৫। সবথেকে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন আমেরিকায়। সেখানে ২,৫৯৬,৫৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর নিরিখেও সবার প্রথমে রয়েছে। মার্কিন মুলুকে ১২৮,১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ২৬ শতাংশ করোনা মৃত্যুর খবর মিলেছে আমেরিকা থেকেই। বিশ্বে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০১,২৯৮। 

আমেরিকার পরেই সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা ব্রাজিলের। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৫৭,১০৩ জনের। সংক্রমিত হয়েছেন ১,৩১৫,৯৪১ জন। বিশ্বে আপাতত করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের প্রত্যন্ত এলাকা এবং ছোটো শহরে করোনার অবস্থা ভয়ানক। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবার অভাব থাকায় সেখানকার মানুষ বড় শহরে ভিড় করছেন। তার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এছাড়াও পেরু এবং চিলিতেও পরিস্থিতি সংকটজনক। 

অন্যদিকে, আক্রান্তের নিরিখে তৃতীয় স্থানে হলেও রাশিয়ায় করোনায় মৃত্যু অনেকটাই কম। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ৬২৭,৬৪৬, সেখানে প্রাণহানি হয়েছে ৮,৯৬৯ জনের। অনেক কম আক্রান্ত দেশেও রাশিয়ার থেকে মৃতের সংখ্যা ঢের বেশি। একই কথা প্রয়োজ্য ভারতের ক্ষেত্রেও। ভারতে সংক্রমিতের সংখ্যা ৫০০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা ১৬,০০০-এর মতো। বিশ্বের সবার্ধিক করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় চার নম্বর থাকলেও মৃত্যুর নিরিখে অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত।

'হিন্দুস্তান'-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে প্রতিদিন গড়ে ১.২৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তথ্যের বিচারে শুধু মে এবং জুন মাসেই প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংক্রমিতের হদিশ মিলছে। তবে মৃত্যুর হার আগের থেকে কমেছে। গত মার্চে বিশ্বে প্রায় ১.৯ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল করোনা। সেই সময় নয়া ভাইরাসের হটস্পট ছিল ইতালি, স্পেন এবং ফ্রান্স। একইসঙ্গে আমেরিকা এবং ব্রিটেনও প্রভাব ক্রমশ বাড়ছিল। এখন অবশ্য অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলি। কিন্তু আমেরিকার পরিস্থিতি এখনও সঙ্গীন। তারইমধ্যে ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়ার মতো দেশে পরিস্থিতি আরও করুণ হচ্ছে।

বিশ্বের একাধিক দেশ যখন করোনার প্রথম ঝাপটা কাটাতে গিয়েই নাকানিচোবানি খাচ্ছে, সেখানে ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় স্রোতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বেজিংয়ে নয়া আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তার জেরে নতুন করে সংক্রমণ বিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। 

তারইমধ্যে অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার সংখ্যা। বিশ্বে আপাতত সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৫,৪৫৮,৩৬৯। ৩৮ টি দেশে পুরোপুরি করোনা মুক্ত হয়েছে বা করোনার কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পথে। 'হিন্দুস্তান'-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভুটানে করোনা সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য। শ্রীলঙ্কায় সেই সংখ্যাটা নয়। গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড করোনা মুক্ত হলেও পরে কয়েকটি কেসের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি, বর্তমানে সক্রিয় আক্রান্তদের মধ্যে সংকটজনক রোগীর সংখ্যাও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। বিশ্বে এখন মোট সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ৪,১২১,৮৭৮। মাত্র ৫৭,৭৪৮ জন রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল।

বন্ধ করুন