বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > EURO 2020: একনজরে দেখে নিন 'গ্রুপ অফ ডেথ' গ্রুপ 'এফ'র খুঁটিনাটি
গ্রুপ 'এফ'র চারটি দল। ছবি- টুইটার।
গ্রুপ 'এফ'র চারটি দল। ছবি- টুইটার।

EURO 2020: একনজরে দেখে নিন 'গ্রুপ অফ ডেথ' গ্রুপ 'এফ'র খুঁটিনাটি

  • গতবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের এবার গ্রুপ পর্যায় পেরতেই বেশ বেগ পেতে হবে তা বলাই বাহুল্য।

শুভব্রত মুখার্জি

ইউরো কাপ ২০২০ গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে গ্রুপ 'এফ' থেকে বিশ্ব তথা ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী যে কোন একটি দেশকে আমাদের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় জানাতে হবে তা নিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে এই গ্রুপ যে নিঃসন্দেহে 'গ্রুপ অফ ডেথ' তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গতবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের এবার গ্রুপ পর্যায় পেরতেই বেশ বেগ পেতে হবে তা বলাই বাহুল্য। তাঁদেরকে কড়া টক্করের মুখে ফেলতে প্রস্তুত চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান ফ্রান্স‌।

একসঙ্গে বিশ্বফুটবলের সেরা তিনটি শক্তির লড়াই যে উত্তেজনাপূর্ণ হবে তা বলাই বাহুল্য। বর্তমান সময়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলকে মাতানো দুই দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের উপর স্বাভাবিকভাবেই আলাদা করে নজর থাকবে। উল্লেখ্য সাম্প্রতিককালে দাঁড়িয়ে ফরাসি ক্লাব ফুটবলের যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। পিএসজির মতো ক্লাব শেষ মরসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এবং এর আগের মরসুমের ফাইনালে পর্যন্ত খেলেছে।

∆ একনজরে দেখে নিন গ্রুপ ‘এফ’র দলগুলি :-

১) পর্তুগাল

২) জার্মানি

৩) হাঙ্গেরি

৪) ফ্রান্স

∆ পর্তুগাল:-

২০১৬ সালটা পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ফাইনালে তাঁদের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো চোট পেয়ে উঠে যাওয়ার পরেও যেভাবে অদম্য লড়াই চালিয়ে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁরা জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তা এককথায় অকল্পনীয়। ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকেই পর্তুগীজরা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দেশ হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে পৌছালেও সেইবার গ্রিসের কাছে তাঁদের হার মানতে হয়েছিল। লুইস ফিগো, পিন্টোর দেশের ফুটবলকে তারপর থেকে কার্যত একার কাঁধে টেনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

তাঁর ও বয়স যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে কার্যত এটাই তার শেষ ইউরো। সুতরাং তিনি যে নিজের সেরাটা নিংড়ে দেবেন তা বলাই বাহুল্য। একবার চ্যাম্পিয়ন এবং একবার রানার্স আপ হওয়ার পাশাপাশি পর্তুগীজরা তিনবার সেমিফাইনালেও খেলেছে। এখন পর্যন্ত রোনাল্ডোর দেশ ইউরোতে ৩৫ টি ম্যাচ খেলে ১৮টিতে জয় , আটটিতে হারের পাশাপাশি নয়টি ম্যাচ ড্রও করেছে। রোনাল্ডোর পাশাপাশি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন ২৪ বছর বয়সী ফুটবলার দিয়োগো জোটা। লিভারপুলের হয়ে খেলা এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে ১২টি ম্যাচে ছয়টি গোল করেছেন এখন পর্যন্ত।

∆ জার্মানি:-

বিশ্ব ফুটবল হোক কিংবা ইউরোপীয় ফুটবল জার্মানির মতো অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করা দেশের সংখ্যা বিরল। চারবার বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার পাশাপাশি যুগ্মভাবে সবথেকে বেশি তিনবার ইউরোর ট্রফি জয়ের বিরল নজির রয়েছে তাঁদের। জার্মান রক্তে যেন অদম্য লড়াই একেবারে লেখা রয়েছে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে তাঁদের ইতিহাসে প্রথমবার তাঁরা গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে গিয়েছিল। সেই যন্ত্রণা ভুলতে তাঁরা যে এই ইউরোতে মরণকামড় দেবে তা বলাই বাহুল্য। ১৯৭২, ১৯৮০ ও ১৯৮৬ সালে তিনবার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ১৯৭৬, ১৯৯২ ও ২০০৮ সালে ফাইনালে উঠেও হারের মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁদের। একবাক্যে বলা যেতে পারে ইউরোর ইতিহাসে থমাস মুলার, মিরোস্লাভ ক্লোজে, লুকাস পোডোলস্কি,ম্যানুয়েল ন্যুয়ারদের দেশের সাফল্য ঈর্ষনীয়। এখনও পর্যন্ত ইউরোর মঞ্চে তাঁরা ৪৯ টি ম্যাচ খেলে ২৬টি জয়, ১১টি হার এবং ১২ টি ড্র অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুজ এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা। ৩৫ বছর বয়সী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের পারফরম্যান্সের উপর স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর থাকবে।

∆ হাঙ্গেরি:-

বেশ কয়েক দশক হয়ে গেছে ফেরেঙ্ক পুসকাসের হাঙ্গেরি সেইভাবে বিশ্বমঞ্চে বা ইউরোর মঞ্চে বলার মতন তেমন পারফরম্যান্স করে উঠতে পারেনি। বলা ভাল তাঁদের পারফরম্যান্স তাঁদেরকে ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা চাইবে এই ইউরোতে ভাল কিছু করতে। তবে যে গ্রুপে তাঁরা পড়েছে তাতে কাজটা একেবারেই সহজ হবে না। বলা বাহুল্য এই গ্রুপ থেকে যদি তারা পরবর্তী রাউন্ডে উঠতে পারে তবে তা মিরাকেলের থেকে কম কিছু হবে না। 

ইউরোতে হাঙ্গেরির ভাল পারফরম্যান্স বলতে আমাদেরকে ঘুরে তাকাতে হবে চার দশক আগে। ১৯৬৪ সালে তাঁরা তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিল। ১৯৭২ সালে চতুর্থ স্থানও পেয়েছিল এই দেশ। এখনও পর্যন্ত ইউরোর ইতিহাসে মাত্র আটটি ম্যাচ খেলে তাঁরা দু'টি জয়, চারটি হার এবং দু'টি ড্র অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে ২৩ গোল করা অধিনায়ক অ্যাডাম জালাই এবং জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গের উইঙ্গার রোলান্ড সাল্লাইয়ের পারফরম্যান্স এর প্রতি নজর থাকবে হাঙ্গেরির সমর্থকদের।

∆ ফ্রান্স:-

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে জিনেদিন জিদানের দেশ। ফরাসি ফুটবলের রুপকথার সওদাগররা ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জয় সম্পন্ন করার পরে এবার তাঁদের লক্ষ্য ইউরোর মঞ্চ কাঁপানো। ১৯৮৪ ও ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়নরা শেষ আসরে অর্থাৎ ২০১৬ সালে পর্তুগালের কাছে হেরে রানার্স হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৩৯টি ম্যাচ খেলে তাঁরা ২০টিতে জয় পেয়েছে। ১০টিতে হার এবং ন'টিতে ড্রয়ের মুখ দেখেছে। তাঁদের গতিময় স্ট্রাইকার কিলিয়েন এমবাপের দিকে সবার নজর থাকবে। মাত্র ২২ বছরেই ফ্রান্সের হয়ে বিশ্ব মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন তিনি। বার্সেলোনার আন্তোয়া গ্রিজম্যানের প্রতিও নজর থাকবে বিপক্ষের। তবে সবথেকে বড় ভরসার জায়গা মিডফিল্ডে চেলসির ফুটবলার এনগোলো কন্তে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে চেলসির হয়ে যে পারফরম্যান্সটা তিনি করেছেন তাতে দলের সবথেকে বড় ভরসার জায়গা হবেন তিনিই।

বন্ধ করুন