বাংলা নিউজ > ময়দান > চ্যাপেল অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে ‘ভেঙে পড়া’ বিরাটের পাশে দাঁড়াবেন সৌরভ?
চ্যাপেল অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে ‘ভেঙে পড়া’ বিরাটের পাশে দাঁড়াবেন সৌরভ? উঠছে প্রশ্ন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)
চ্যাপেল অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে ‘ভেঙে পড়া’ বিরাটের পাশে দাঁড়াবেন সৌরভ? উঠছে প্রশ্ন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)

চ্যাপেল অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে ‘ভেঙে পড়া’ বিরাটের পাশে দাঁড়াবেন সৌরভ?

  • দু'জনের মধ্যে যেন অদ্ভুত মিল।

দু'জনের মধ্যে যেন অদ্ভুত মিল। ১৬ বছর আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। এবার সেই সৌরভের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই বিরাট কোহলিকে সরিয়ে রোহিত শর্মাকে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়ক বেছে নিয়েছে। তারপর থেকে প্রশ্ন উঠছে, সেই সময় বিসিসিআইয়ের থেকে যেভাবে সৌরভ সমর্থন পেয়েছিলেন, এবার তা কি পাবেন বিরাট?

২০০৫ সালে টানা বাজে ফর্মের জেরে সৌরভকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিল তত্‍কালীন ভারতীয় কোচ গ্রেপ চ্যাপেলের বিস্ফোরক ইমেল। চ্যাপেল দাবি করেছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন সৌরভ। তাঁর আচরণে দলের ক্ষতি হচ্ছে। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, সেই সময় ভারতীয় বোর্ডকে পাশে পেয়েছিলেন সৌরভ। কোচ, অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে দেওয়া হয়েছিল বার্তা। 

যদিও বিরাটকে সরানোর ধরন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরাট ভক্তদের বক্তব্য, এমনিতে পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোহলিকে একদিনের দলের অধিনায়কত্ব সরানোর কোনও মানে নেই। কারণ তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। তাও সরিয়ে দেওয়া হলেও কোহলির সরানোর ধরন নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তাঁরা। বিরাট ভক্তদের বক্তব্য, 'যে ক্রিকেটার পাঁচ বছরের বেশি অধিনায়ক ছিলেন, তাঁর জন্য কোনও সাংবাদিক বৈঠক হল না। ঠিকভাবে কোনও তথ্য দেওয়া হল না। ধন্যবাদ জানিয়ে কোনও পোস্ট করা হল না। বিসিসিআই, এভাবেই কি এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটারের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত? বিশ্ব ক্রিকেটের ধনীতম বোর্ড মানবিকতার দিক থেকে পুরোপুরি নিঃস্ব।'

এমনিতে বুধবার একেবারে আড়ম্বরহীনভাবে বিরাটকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। এমনকী পৃথকভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও করা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজের জন্য দল ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিতেই নীচে এক বাক্যে জানানো হয়েছে, আগামিদিনে একদিন এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়ক হচ্ছেন রোহিত। তাতে বিরাটের নামও নেওয়া হয়নি। বোর্ডের তরফে একটা শব্দও খরচ করা হয়নি। টুইটারেও যে ঘোষণা করা হয়, তাতেও বিরাটের নাম নেওয়া হয়নি। সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, একদিনের ক্রিকেটে যে অধিনায়ক হিসেবে কোহলির সময় শেষ হয়ে এসেছে, তা আগেই লেখা হয়েছিল। বিশেষত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে যাওয়ার পরই কোহলির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তবে ভারতীয় বোর্ড কোহলিকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানাতে চেয়েছিল। সে পথে হাঁটেননি কোহলি। ভারতীয় বোর্ডকে চরম পদক্ষেপ করার ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়েছিলেন বলে মনে করছে একটি মহল। সেই ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে বিসিসিআই। যে বোর্ডের শীর্ষে এমন একজন আছেন, যিনি এককালে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন। ‘বরখাস্ত’ করে দেয় বিরাটকে। যা বিরাটের মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় ছিল না বলে জানিয়েছে পিটিআই।

তবে কে ঠিক, কে ভুল - সেই বিতর্কে না ঢুকে একটি মহলের বক্তব্য, তাঁকে যেভাবে সরানো হয়েছে, তাতে সম্ভবত কোহলি নিজেও কিছুটা বিরক্ত থাকবেন। ভেঙেও পড়তে পারেন। সেই পরিস্থিতিতে বিরাটের কাঁধে এখন বোর্ডের হাত দরকার। যারা বার্তা দেবে যে খেলোয়াড় বিরাটের পাশে এখনও আছে বোর্ড। সেক্ষেত্রে সৌরভের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাঁর পাশে যেভাবে বোর্ড দাঁড়িয়েছিল, সেভাবেই বিরাটের পাশে দাঁড়াতে হবে সৌরভকে।

বন্ধ করুন