বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সাপের কামড়ে সুন্দরবনে মৃত নাবালিকা, প্রাণ বাঁচাতে দেহ ভেলায় ভাসাল পরিবার
মুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় দেহ।

সাপের কামড়ে সুন্দরবনে মৃত নাবালিকা, প্রাণ বাঁচাতে দেহ ভেলায় ভাসাল পরিবার

  • প্রাণ ফেরাতে সাপে কাটা স্বামীর দেহ কলার ভেলায় চাপিয়ে নদীতে ভেসেছিলেন বেহুলা। স্বর্গে গিয়ে স্বামী লখিন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেটা মনসামঙ্গল কাব্যের বিষয়। কিন্তু বাস্তবেও যে এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ ভাবতেও পারেননি। সুন্দরবন এলাকার এই ঘটনায় মানুষের কুসংস্কার প্রকাশ্যে চলে আসছে। 

সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিল নাবালিকা। কিন্তু পরিবার তা মানতে নারাজ। প্রাণ ফিরে পাবে এই কুসংস্কার নিয়েই মুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় দেহ। এই ঘটনা দেখে এলাকার বাসিন্দারা হতবাক। কারণ মঙ্গলবার রাতে কলার ভেলায় ভাসানো হয় নাবালিকার দেহ। কিন্তু প্রতিবেশীদের চেষ্টায় বুধবার দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। আর ময়নাতদন্তে দেহ পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের সাগর ব্লকের মৃত্যুঞ্জয়নগরে।

ঠিক কী ঘটেছে মৃত্যুঞ্জয়নগরে?‌ স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ঘুমন্ত অবস্থায় কেউটে ছোবল মারে আট বছর বয়সের নাবালিকাকে। মেয়েটির নাম শ্রাবণী মালাকার। তখন বাবা সুব্রত মালাকার মেয়েকে বাঁচাতে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। তারপর সাগর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন শ্রাবণীকে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত সে। এরপর দেহ ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে। আর ভাসিয়ে দেওয়া হয় মুড়িগঙ্গা নদীতে।

তারপর ঠিক কী ঘটল?‌ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে দেহ নিয়ে এসে আলোচনায় বসে। সেখানে ঠিক হয়, কলার ভেলায় মেয়েকে ভাসিয়ে দিলে প্রাণ ফিরে আসতে পারে। তড়িঘড়ি সেই ব্যবস্থা করা হয়। রাতে মুড়িগঙ্গা নদীতে শ্রাবণীর দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নাবালিকার দেহ–সহ ওই কলার ভেলা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

উল্লেখ্য, প্রাণ ফেরাতে সাপে কাটা স্বামীর দেহ কলার ভেলায় চাপিয়ে নদীতে ভেসেছিলেন বেহুলা। স্বর্গে গিয়ে স্বামী লখিন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেটা মনসামঙ্গল কাব্যের বিষয়। কিন্তু বাস্তবেও যে এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ ভাবতেও পারেননি। সুন্দরবন এলাকার এই ঘটনায় মানুষের কুসংস্কার প্রকাশ্যে চলে আসছে। যা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বন্ধ করুন