বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সরকারি চাকরির আশা, ‘মাওবাদী হতে’ লম্বা লাইন জঙ্গলমহলের আদালতে!
সরকারি চাকরির লোভ‌, মাওবাদী হতে লম্বা লাইন জঙ্গলমহলের আদালতগুলোতে!  ছবি (‌সৌজন্য ফেসবুক)‌
সরকারি চাকরির লোভ‌, মাওবাদী হতে লম্বা লাইন জঙ্গলমহলের আদালতগুলোতে!  ছবি (‌সৌজন্য ফেসবুক)‌

সরকারি চাকরির আশা, ‘মাওবাদী হতে’ লম্বা লাইন জঙ্গলমহলের আদালতে!

  • মেদিনীপুর আদালতের পাশাপাশি জঙ্গলমহলের অন্যান্য আদালতগুলোতে। জঙ্গলমহলের অনেক মানুষ জেলে ঢোকার কাতর আবেদনে আইনজীবীদের দরজায় কড়া নাড়ছেন।

মাওবাদী তকমা ঘোচাতে নয়, এবার মাওবাদী হতে হিড়িক পড়ে গিয়েছে জঙ্গলমহলে!‌ আইনজীবীদের কাছে তাঁদের কাতর আবেদন, ‘‌স্যার দয়া করে একবার জেলে পাঠিয়ে দিন।’ এক সময় মাওবাদী তকমা ঘোচাতে আইনজীবীদের দরজায় লম্বা লাইন পড়ত।

তৃণমূল সরকার আসার পর আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের সরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সেই প্যাকেজ অনুযায়ী জঙ্গলমহল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার ১১০ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা হোমগার্ডে চাকরি পেয়েছেন। আবার অনেক মাওবাদীদের এও অভিযোগ জানিয়েছেন যে, আত্মসমর্পণ করার পর অনেকেই সেই চাকরি পেলেও এখনও একাংশ প্রকৃত মাওবাদীরা সেই প্যাকেজ পাননি। বিভিন্ন সময় তাঁরা বিক্ষোভও দেখাচ্ছেন।

এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে এই উলটপুরাণ। বেশ কয়েকদিন ধরে সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভে মাওবাদী তকমা পাইয়ে দিতে লম্বা লাইন পড়ছে মেদিনীপুর আদালতের পাশাপাশি জঙ্গলমহলের অন্যান্য আদালতগুলোতে। জঙ্গলমহলের অনেক মানুষ জেলে ঢোকার কাতর আবেদনে আইনজীবীদের দরজায় কড়া নাড়ছেন। ‌এমনকী, প্রয়োজনমতো টাকা খরচও করতে রাজি তাঁরা। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে যাঁদের আগেই জামিন হয়ে গিয়েছে এমন শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত, মহিলা-পুরুষেরা মাওবাদী হওয়ার আশায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আদালত চত্বরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কেবলমাত্র সরকারি চাকরি ও প্যাকেজের জন্য মাওবাদীদের তালিকায় তাঁদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার আবেদন করছেন তাঁরা। এতেই বেকায়দায় পড়েছেন আইনজীবীরা। বেআইনি এই কাজ কীভাবে সম্ভব, তা ভেবে কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না-‌তাঁরা।

মেদিনীপুর আদালতের আইনজীবী অপূর্ব চক্রবর্তী বলেন, ‘‌ এমন আগে বহু কেস দেখেছি যেখানে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর জঙ্গলমহলের মানুষ আসতেন মাওবাদী তকমা ঘোচানোর জন্য। কিন্তু এখন মানুষ আসছেন মাওবাদী তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য। বিশেষ করে যারা একসময় নিজেদের মামলা শেষ করার জন্য পিড়াপিড়ি করতেন, এখন তারাই মাওবাদী তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য উপস্থিত হচ্ছেন। তাঁদের শুধুমাত্র আবেদন, ‘‌স্যার দয়া করে একবার জেলে পাঠিয়ে দিন।’‌ অন্যান্য আইনজীবীদেরও একই বক্তব্য, এখন জামিন হয়ে যাওয়ার পরও মাওবাদী তকমা পেতে অনেকেই এসে তাঁদের কাছে পুনরায় কারাবাসে ঢুকিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন।

বন্ধ করুন