বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > 'কোনও কাজই ছোটো নয়',বললেন ডোমের চাকরিতে আবেদন করা ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস
স্বর্ণালী সামন্ত। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

'কোনও কাজই ছোটো নয়',বললেন ডোমের চাকরিতে আবেদন করা ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস

স্বর্ণালী জানান, তাঁর চাকরিটা খুবই দরকার। মেয়েরা এখন অনেক পেশার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন।

‌সংসারে অভাব অনটন। তারইমধ্যে স্নাতকে ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা স্বর্ণালী সামন্ত। বছর চারেক আগে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী পেশায় উবের চালক। একার রোজগারে সংসার চলে না। স্বর্ণালী একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও মাইনে খুবই কম। তাই সংসার সামাল দিতে ডোমের চাকরি পাওয়ার আশায় আবেদন করলেন স্বর্ণালী। তাঁর মতে, চাকরিটা তাঁর খুব দরকার। কারণ, কোনও কাজকেই তিনি ছোটো মনে করেন না।

সম্প্রতি এনআরএস মেডিকেল কলেজে অ্যাসিসট্যান্ট ল্যাবেটরিয়ান পদে বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির আবেদন করেন স্বর্ণালী। এর আগেই অনেক পরীক্ষাতেই আবেদন করেছেন। আর পাঁচটা পরীক্ষার মতো এখানেও আবেদন করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, যেখানে তিনি আবেদন করেছেন, সেটি আসলে ডোমের পদের জন্য চাকরি। একথা জানার পরও বিচলিত হননি তিনি। এই প্রসঙ্গে স্বর্ণালী জানান, তাঁর চাকরিটা খুবই দরকার। মেয়েরা এখন অনেক পেশার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন। আগে তাঁরা অনেক কাজই করত না। এখন আর সেই দিন নেই। তাই চাকরিটা পেলে তিনি নিজেকে ছোট মনে করবেন না। তাঁর পরিবারের লোকেরাও তাঁর সঙ্গে সহমত।

চার বছর আগে শিবপুরের অনন্ত দেব চ্যার্টার্জি লেনের বাসিন্দা দেবব্রত কর্মকারকে বিয়ে করেন স্বর্ণালী। স্বামী উবের চালক। তবে একার সংসারে চলে না। স্বর্ণালী এখন বেসরকারি একটি সংস্থায় সামান্য মাইনের কাজ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছিল স্বর্ণালীর কাছে। স্বর্ণালী জানিয়েছেন, বাড়িতে তাঁর অসুস্থ বাবা, মা ও মেয়ে রয়েছেন। তাই তাঁর চাকরিটা খুবই প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ওই পরীক্ষাটি হয়ে গিয়েছে। এখন স্বপ্নপূরণের আশায় বসে রয়েছেন তিনি।

বন্ধ করুন