তীব্র গতিতে গাড়ি ছুলে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারান চালক, গাড়ি উলটে পড়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে।
তীব্র গতিতে গাড়ি ছুলে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারান চালক, গাড়ি উলটে পড়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে।

পুলকার দুর্ঘটনা তদন্তে নয়া মোড়, এসএসকেএম-এ লকেট

গাড়ি বদলাতে গিয়ে ওই দিন বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন সন্তোষ। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কুলে ছাত্রদের পৌঁছনো নিয়ে চাপে পড়ে যান গাড়িচালক। মরিয়া হয়ে গাড়ির গতি বাড়ানোর ফলেই নিয়ন্ত্রণ হারায় পুলকারটি।

পুলকার দুর্ঘটনায় ফাঁস হল আরও এক অনিয়মের তথ্য। জানা গিয়েছে, মাঝপথে পড়ুয়াদের অন্য গাড়িতে তোলার ফলে সময় নষ্ট হলে অস্বাভাবিক গতিতে গাড়ি ছোটান চালক।আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি ছাত্রদের দেখতে শনিবার এসএসকেএম-এ পৌঁছলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

হুগলির পোলবায় স্কুলের পুলকার দুর্ঘটনা ঘিরে একাধিক বেনিয়মের তথ্য উঠে আসছে। শুক্রবারই ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছিল, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটির দীর্ঘ দিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। এই কারণে তীব্র গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে হঠাত্ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। রাস্তা ছেড়ে পাশের নয়ানজুলিতে উলটে পড়ে ছাত্র-সহ গাড়িটি।

ফুসফুসে পাঁক ঢুকে গুরুতর সংকটজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভরতি স্কুলছাত্র ঋষভ সিংয়ের বাবা সন্তোষ সিংয়ের দাবি, নিয়মিত চলাচলকারী গাড়ির বদলে ছাত্রদের বহু দিনই মাঝপথে অন্য গাড়িতে তুলে দেওয়া হত। ওই দিনও পুলকার সংস্থা একই উদ্যোগ নেওয়ায় স্কুলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। বদলে দেওয়া গাড়িই পরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পুল কারের গতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশ কিছু বাড়ানো হয়েছিল। গতি বাড়ানোর উদ্দেশে আগেই খুলে রাখা হয়েছিল গাড়ির স্পিডোমিটারের তার। প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে গাড়িটি, তারপরে রাস্তার ধারের কংক্রিট ব্যারিকেডে ধাক্কা লাগার পরে ব্রেক কষার চেষ্টা করেন চালক। তার জেরে রাস্তা থেকে ছিটকে নয়ানজুলির মাঝখানে উড়ে গিয়ে পড়ে স্কুলপড়ুয়া বোঝাই গাড়িটি।

দুর্ঘটনায় আহত চালক আপাতত হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তিনি সুস্থ হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।



আরও পড়ুন: বেলাগাম গতিতেই পোলবায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত পুলকার, প্রকাশ প্রাথমিক তদন্তে


শুক্রবার শ্রীরামপুরের দিক থেকে চুঁচুড়া যাওয়ার পথে ১৫ জন পড়ুয়া-সহ নয়ানজুলিতে ছিটকে পড়ে গাড়িটি। দুর্ঘটানয় চালক-সহ পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে দুই জনকে। সঙ্কটজনক অবস্থায় গ্রিন করিডর তৈরি করে দুই ছাত্রকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে রোগীদের দেখে এসেছেন ফিরহাদ হাকিম ও কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন আহতদের দেখতে সেখানে পৌঁছন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ি উল্টে নয়ানজুলিতে পড়ার পরে ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে পাঁক ঢোকার ফলে দুই পড়ুয়ার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। তাদের চিকিত্‍সার জন্য সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে 'এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন' পদ্ধতিতে বাইরে থেকে পাম্পের সাহায্যে কৃত্রিম ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা সঠিক রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।

এ দিকে, পোলবার দুর্ঘটনায় বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, ২ বছর যাবত্ ফিটনেসের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া গাড়িকে কী কারণে ব্যবহার করেছে পুলকার সংস্থা? এই বিষয়ে সংস্থার নজরদারিতে গাফিলতি ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।



বন্ধ করুন