বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দুর্নীতির আঁচে ছাঁটাই অনেকে, প্রশান্ত কিশোরের ১ বছরের সমীক্ষায় ঝাঁকুনি তৃণমূলে
রদবদলে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তৃণমূল?
রদবদলে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তৃণমূল?

দুর্নীতির আঁচে ছাঁটাই অনেকে, প্রশান্ত কিশোরের ১ বছরের সমীক্ষায় ঝাঁকুনি তৃণমূলে

  • রদবদলে দলে যেমন প্রাধান্য পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত কমবয়সিরা, তেমনই ছেঁটে ফেলা হয়েছে দুর্নীতিতে নাম জড়ানো নেতাদের।

কখনও সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের ফোন করেছেন, কখনও আবার বৈঠকে পরীক্ষা নিয়েছেন। সঙ্গে চলেছে সাংগঠনিক সমীক্ষা। তার সেই প্রশান্ত কিশোরের সমীক্ষার উপর ভরসা করেই বিধানসভা ভোটের আগে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। 

সেই রদবদলে দলে যেমন প্রাধান্য পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত কমবয়সিরা, তেমনই ছেঁটে ফেলা হয়েছে দুর্নীতিতে নাম জড়ানো নেতাদের। একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন যুব তৃণমূল এবং মূল তৃণমূলের মধ্যে যেভাবে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে, তাও নজর এড়ায়নি প্রশান্ত কিশোরের। মূল তৃণমূলেও যে গোষ্ঠীকোন্দলের নির্দশন কম নেই, তা গত এক বছরে ভালোই টের পেয়েছেন নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত। বিশেষত আমফান ত্রাণ বণ্টনে যেভাবে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে প্রশান্তের রিপোর্ট কার্ডেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা রেখেছেন বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর। পাশাপাশি কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে নামভারী পদ দেওয়া হলেও আদতে তা অলঙ্কার হিসেবে রইল।

নাম গোপন রাখার শর্তে তৃণমূল সরকারের এক মন্ত্রী জানান, নিজেদের প্রচারের অঙ্গ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই অহেতুক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সেজন্যই দলে নয়া মুখদের প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষত যে নেতাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে, তাঁদের তুলে আনা হয়েছে।

রাজ্যের অপর এক মন্ত্রী জানিয়েছেন,  বিজেপির অভিযোগের পালটা দিতে দলের নেতাকর্মী এবং রাজ্যবাসীকে উদ্দেশে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, নিয়ম লঙ্ঘন করলে বা দুর্নীতিতে নাম জড়ালে বা দলের উপরে ব্যক্তিগত স্বার্থকে রাখলে কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না। 

আর সেজন্যই রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী তথা হাওড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরূপ রায়ের উপরও কোপ পড়েছে বলে জানান ওই মন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি অরূপের বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাঁচানোর অভিযোগ তুলেছিলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকী রাজীব বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে রাজীবের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকা তরুণ নেতাকে কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চায়নি ঘাসফুল শিবির। তাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অরূপকে। পরিবর্তে হাওড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। 

একইভাবে দক্ষিণ কলকাতা যুব তৃণমূলের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের উপরও কোপ পড়েছে। তাঁর দাদা তথা পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও দলের কোর কমিটিতে ঠাঁই পাননি। অথচ একটা সময় তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন মমতার মন্ত্রিসভার অন্যতম তরুণ সদস্য অরূপ। তৃণমূলের এক নেতার বক্তব্য, তরুণ রক্তে জোর দেওয়া হলেও পারফরম্যান্স ভালো না হলে বা কোনও অভিযোগ উঠলে যে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। আর তার নেপথ্যে রয়েছেন পিকে ওরফে প্রশান্ত কিশোর।

বন্ধ করুন