বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > INTTUC Wins: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বড় পরাজয় ঘটল বিজেপির, শ্রমিকদের ভোটে তৃণমূলের জয়জয়কার
তৃণমূল কংগ্রেস। (ছবি, সৌজন্যে এএনআই)

INTTUC Wins: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বড় পরাজয় ঘটল বিজেপির, শ্রমিকদের ভোটে তৃণমূলের জয়জয়কার

  • ভোট ভাগাভাগিতে শুয়ে পড়েছে বিজেপি সমর্থিত ইউনিয়ন বিজেএমসি এবং সিটু। ২১১টি ভোটের মধ্যে আইএনটিটিইউসি ভোট পেয়েছে ১২৬টি, বিজেএমসি পেয়েছে ৬২টি এবং সিটু পেয়েছে ২২টি। একটি ভোট বাতিল হয়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে এবার আইনটিটিইউসি ভোট বেশি পেয়েছে।

পরাজয়ের ধারা অব্যাহত। কাঁথি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুখুরিয়া পদ্মশ্রী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি। বিরোধী দলনেতার গড় হলেও এটাই বাস্তবের ফল। ঠিক তার পরেই হলদিয়ার টাটা স্টিল হুগলি মেটকোক ডিভিশনে স্থায়ী কর্মীদের নির্বাচনে হেরে গেল বিজেপির বিজেএমসি। আর এই ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই শিল্পাঞ্চলে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল সবার সামনে চলে এল। বিজেপির বিজেএমসি এবং আরএসএসএর বিএমএস দুই শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্বও আরও প্রকট হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে?‌ স্থানীয় সূত্রে খবর, শিল্পাঞ্চলে কোন সংগঠন মাথা তুলবে তা নিয়েই বিজেপির দুই সংগঠনের অন্তর্দ্বন্দ্ব। হলদিয়ার কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে বিজেপির সমর্থকরা এতদিন বিএমএসকে সমর্থন করেছে। সেখানে নতুন করে শিল্পাঞ্চলে কারখানার গেটগুলিতে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিজেএমসি নাম লেখাতেই ধন্দে পড়েছেন শ্রমিকরা। তার জেরে শ্রমিক সংগঠনকে ঘিরে দুই গোষ্ঠীর গেট দখলের লড়াই রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পাঞ্চলে সম্প্রতি মণ্ডল সভাপতিদের বদল ঘিরে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। টাটার নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে?‌ এদিকে, কারখানা নির্বাচনে হারার পরই দলবদলু বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে এখানের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী। সোমবার হলদিয়ায় টাটা স্টিল হুগলি মেটকোক ডিভিশনের স্থায়ী কর্মীদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় আইএনটিটিইউসি সমর্থিত প্রগতিশীল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন। এখানে মোট ভোটের ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছে আইএনটিটিইউসি সমর্থিত ইউনিয়ন।

ভোটের অঙ্ক কেমন দাঁড়াল?‌ অন্যদিকে ভোট ভাগাভাগিতে শুয়ে পড়েছে বিজেপি সমর্থিত ইউনিয়ন বিজেএমসি এবং সিটু। ২১১টি ভোটের মধ্যে আইএনটিটিইউসি ভোট পেয়েছে ১২৬টি, বিজেএমসি পেয়েছে ৬২টি এবং সিটু পেয়েছে ২২টি। একটি ভোট বাতিল হয়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে এবার আইনটিটিইউসি ভোট বেশি পেয়েছে। তখন আইএনটিটিইউসি ভোট পেয়েছিল ১০৯টি, বিজেপি ঘনিষ্ঠ ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ(বিএমএস) পেয়েছিল ৮১টি এবং সিটু পেয়েছিল ৩০টি। এবার বিজেপি–সিটু দু’‌জনেরই ভোট কমেছে। আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংগঠনের তমলুক জেলার সভাপতি শিবনাথ সরকার জয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিছুদিন আগেই বন্দরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় আইএনটিটিইউসি।

কে কী বলছেন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে?‌ আইএনটিটিইউসি নেতা শিবনাথবাবু বলেন, ‘‌স্থায়ী কর্মীরা একজোট হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে মত দিয়েছেন এই নির্বাচনে।’‌ বিজেপি নেতা তথা বিএমএসের রাজ্য নেতা প্রদীপ বিজলি বলেন, ‘‌গতবার লড়াই করে বিএমএস বেশি ভোট পেয়েছিল। এবার বিজেএমসি কেন ভোট কম পেল তার ময়নাতদন্ত হওয়া দরকার।’‌ আর বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, ‘‌বিজেএমসি এবং বিএমএসের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। এটা কারা বলছে জানি না। শাসকদলের হুমকির পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিসের অতি সক্রিয়তার জন্য বিজেপি হেরেছে।’‌

বন্ধ করুন