বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > 'অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি', শুভেন্দু গেলে 'ক্ষতি' তৃণমূলের, এবার 'বিদ্রোহী' অতীন ঘোষ
'অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি', শুভেন্দু গেলে 'ক্ষতি' তৃণমূলের, এবার 'বিদ্রোহী' অতীন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক এবং পিটিআই)
'অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি', শুভেন্দু গেলে 'ক্ষতি' তৃণমূলের, এবার 'বিদ্রোহী' অতীন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক এবং পিটিআই)

'অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি', শুভেন্দু গেলে 'ক্ষতি' তৃণমূলের, এবার 'বিদ্রোহী' অতীন ঘোষ

  • রাজনৈতিক জীবনে বঞ্চিত হয়েছেন, কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে৷ তাই এখন হতাশা বাড়ছে৷

এবার কি ‘নতুন বিদ্রোহী’ অতীন ঘোষ? এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে রাজ্য–রাজনীতিতে। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের অহি–নকুল সম্পর্কের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য এবং প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ৷ তিনি জানান, ‌রাজনৈতিক জীবনে বঞ্চিত হয়েছেন, কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে৷ তাই এখন হতাশা বাড়ছে৷ শুভেন্দু অধিকারীর মতো জননেতা দল ছাড়লে তৃণমূলের ক্ষতি হবে৷‌ তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন তিনি৷

উত্তর কলকাতা থেকে প্রায় তিন দশক ধরে কাউন্সিলর নির্বাচিত অতীন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন৷ যদিও তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি৷ সেই ক্ষোভের কথাই এবার শোনা গেল অতীন ঘোষের গলায়৷ শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‌এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলিনি৷ অনেক বঞ্চনার স্বীকার হতে হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে৷ আমাদের মতো কর্মীরা আশা করেন, দলের শৃঙ্খলা যাঁরা প্রকাশ্যে ভঙ্গ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তা না হওয়ায় ক্ষোভগুলি প্রকাশ্যে আসছে।’‌

সূত্রের খবর, অতীন ঘোষকে মেয়র প্রজেক্ট করে কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচনে লড়তে চায় বিজেপি। এই বিষয়ে তাঁকে 'টোপ' দেওয়াও হয়েছে। অতীন ঘোষ পুরনিগমের জনপ্রিয় মুখ। বহু সাফল্য রয়েছে তাঁর কাছে। সেটাকেই বিজেপি কাজে লাগাতে চায়। উত্তর কলকাতার বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদক তাঁকে এই প্রস্তাব দিয়েছে।

তারপরেই তিনি বলেন, ‘‌দলের দরজা হাট করে দেওয়া হয়েছে৷ বিভিন্ন সময়ে যাঁরা দলকে, নেত্রীকে চূড়ান্ত আক্রমণ করেছেন, তাঁরাও দলে এসে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ এসব যন্ত্রণা দেয়৷ ফলে আমাদের মতো যাঁরা দলটা শুরু থেকে করেছি, আজ তাঁরা হতাশ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি কিছু মানুষের উপরে নির্ভর করেন৷ তাঁরা যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতেন, তাহলে দলের আজকে এই অবস্থা হত না৷’‌ আসলে নেত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।

রাখঢাক না করে অতীন ঘোষ বলেন, ‘‌কোনও দিন প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট টিমের অধীনে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা নেই৷ আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা৷’‌ একইসঙ্গে বিধায়ক মিহির গোস্বামীর দল ছাড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে অতীন ঘোষ বলেন, ‘‌মিহিরের মতো ভালো, সৎ ছেলে কেন দল ছেড়ে চলে গেলেন এবং দল কেন তাঁকে ধরে রাখতে পারল না, এটাও আমার কাছে খুব বিস্ময়ের।’‌

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর বিদ্রোহ, বিধায়ক শীলভদ্র দত্তের ক্ষোভপ্রকাশ, বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বিজেপিতে যোগদানের পর এবার উত্তর কলকাতার নেতা অতীন ঘোষের গলাতেও একই সুর৷ যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে অশনি সংকেত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বন্ধ করুন