বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘‌বিজেপিতে যোগদান করার কথা ছিল তাঁর’‌, সুব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি রূপার
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (ফাইল ছবি পিটিআই) (PTI)
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (ফাইল ছবি পিটিআই) (PTI)

‘‌বিজেপিতে যোগদান করার কথা ছিল তাঁর’‌, সুব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি রূপার

  • সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে এভাবে আক্রমণ অনেকে ভাবতেই পারছেন না।

শোকের আবহে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, আজ যখন সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে তখন বিস্ফোরক দাবি করে এই বর্ষীয়ান নেতাকে অপমানও করলেন তিনি। এই নিয়ে রাজ্য–রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন সময়জ্ঞান হারিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপি নেত্রী। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন. ‘‌ধ্যাৎ, সবাই যেন হঠাৎ বালিগঞ্জে একা হয়ে গেল। সরি বস!’‌

সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে এভাবে আক্রমণ অনেকে ভাবতেই পারছেন না। বিজেপি নেতারা যেখানে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তখন এমন ফেসবুক পোস্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঠিক কী লিখেছেন রূপা?‌ মহিলা মোর্চার প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী লিখেছেন, ‘‌তিস্তাকে নিয়েছ বস্। কিছু তো ফেরত নেবে মা কালী।’‌ এই মন্তব্যে বিতর্ক এখন চরমে উঠেছে। কারণ সদ্য পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিজেপি কাউন্সিলর তিস্তা বিশ্বাসের। সে কথাই তিনি বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তিস্তার মৃত্যুর সঙ্গে সুব্রতর যোগ স্পষ্ট করেননি রূপা।

আজ যখন এভারগ্রিন সুব্রত একডালিয়ায় নেই তখন এমন সমালোচনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। এই পুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়েছিলেন রূপা। আজ চোখের জলে একডালিয়া এভারগ্রিনের সদস্যরা তাঁদের প্রিয় দাদাকে বিদায় জানিয়েছে। সেখানে ফেসবুক পোস্টে রূপা লিখেছেন, ‘‌পুজো জাঁকজমক করা আর টাকা তোলা ছাড়া যার কোনও কন্ট্রিবিউশন ছিল না। তার জন্য আমার কোনও সম্মান নেই। সরি বস।’‌ এক্ষেত্রে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে কার্যত তোলাবাজ বলেছেন তিনি।

এমনকী সুব্রত মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এবং তার পর আবার কংগ্রেস ঘুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ফিরেছিলেন। সেই দলবদলের ইতিহাস মনে করিয়ে রূপার বিস্ফোরক দাবি, ‘‌২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগদান করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ডিল পছন্দ হয়নি ওঁর। এসব কথা আমি বলি না। নীরবই থাকি।’‌ এই দাবি করার আজকে প্রয়োজন পড়ল কেন?‌ তাহলে একুশের নির্বাচনের প্রচারে এসে তিনি বললেন না কেন?‌ উঠছে প্রশ্ন।

একজন বর্ষীয়ান নেতা তথা মন্ত্রী প্রয়াত হওয়ার পর এমন অপমান রাজনীতিতে অসৌজন্য তৈরি করে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্টের প্রেক্ষিতে অনেকে লিখেছেন, ‘‌একজনের মৃত্যুর পরেও যেভাবে আপনি সামাজিক মাধ্যমে নোংরামো করছেন, তাতে আপনার শিক্ষা বিষয়ে আমি সন্দিহান।’‌ আর একজন লিখেছেন, ‘‌অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। আপনার মানবিক শিক্ষার প্রয়োজন।’‌

বন্ধ করুন