বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘‌আমাকে কাজে যেতেও বাধা দেওয়া হতো’‌, স্বামী–শ্বশুরের হাতে অত্যাচারিত অধ্যাপিকা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)

‘‌আমাকে কাজে যেতেও বাধা দেওয়া হতো’‌, স্বামী–শ্বশুরের হাতে অত্যাচারিত অধ্যাপিকা

  • তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ভাষার অস্থায়ী অধ্যাপিকা।

স্বামী ও শ্বশুরের যৌথ অত্যাচারে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন অধ্যাপিকা। খাস কলকাতায় এই ঘটনা অনেককেই অবাক করেছে। গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন খোদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা। অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছয় মাঝরাতে তাঁকে ১০০ নম্বর ডায়াল করতে হয়। আর পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাকে।

ঠিক কী ঘটেছে?‌ অধ্যাপিকার বয়ান অনুযায়ী, তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ভাষার অস্থায়ী অধ্যাপিকা। তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ করা হতো। প্রথমে সেটিকে গুরুত্ব না দেওয়ার পথে হাঁটলেও উত্তরোত্তর তা বাড়তে শুরু করেছিল। অধ্যাপিকার স্বামী পেশায় আইনজীবী। অভিযোগ, তিনি অধ্যাপিকাকে কর্মক্ষেত্রে যেতে বাধা দিতেন। আর সেটা না শুনলেই চলত অত্যাচার। এই কাজে স্বামী সঙ্গে যোগ দিতেন শ্বশুরও। লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে রিজেন্ট পার্ক থানায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, টালিগঞ্জের পূর্ব পুটিয়ারি পেয়ারা বাগানের বাসিন্দা ওই অধ্যাপিকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মরত। তাঁদের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে। অধ্যাপিকার অভিযোগ, তাঁর স্বামী ও শ্বশুর নানা ভাবে শারীরিক অত্যাচার করেন। বাড়িতে প্রতিনিয়ত মানসিক অত্যাচারেরও শিকার হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। সেই অত্যাচারই রবিবার চরমে ওঠে। তখন বাধ্য হযে মাঝরাতে ওই অধ্যাপিকা ১০০ ডায়াল করে লালবাজারে পুলিশের সাহায্য চান। লালবাজার রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশকে নির্দেশ দিলে নির্যাতিতা অধ্যাপিকা ও তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের কাছে চোখের জল ফেলে নির্যাতিতা অধ্যাপিকার বলেন, ‘‌অত্যাচার চলছিল। আমি সহ্য করছিলাম। কিন্তু আর পারলাম না। আমাকে কাজে যেতেও বাধা দেওয়া হতো। মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। অনেকসময় শারীরিক অত্যাচারেরও শিকার হয়েছি।’‌ অধ্যাপিকাকে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হতে হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

বন্ধ করুন