বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিদ্যুতের বিলে ছাড় পেতে গেলে বাড়িতে তালা দিয়ে থাকতে হবে অন্যত্র, বলছে হিসাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বিদ্যুতের বিলে ছাড় পেতে গেলে বাড়িতে তালা দিয়ে থাকতে হবে অন্যত্র, বলছে হিসাব

যদি কোনও বাড়িতে গড়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎও ব্যবহার হয়। অর্থাৎ একটি ফ্যান ও একটি CFL বাতি, তাহলেও বিদ্যুতের বিল হবে দিন প্রতি ১.৮ ইউনিট।

সোমবার রাজ্য বাজেটে ৩ মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে মাশুল সম্পূর্ণ ছাড়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তাঁর দাবি, এতে রাজ্যের বহু গরিব পরিবার যাদের বিদ্যুতের বিল দেওয়ার সামর্থ নেই তাঁরা উপকৃত হবেন। কিন্তু সত্যিই কি এই ছাড়ে কোনও উপকার হবে সাধারণ মানুষের। আসুন এক নজরে দেখে নিই হিসাব।

প্রথমে বলে রাখি, রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম প্রতি ৩ মাস অন্তর বিদ্যুতের বিল পাঠায়। তিন মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণকে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করে প্রতি মাসের হিসাব করা হয়। ফলে আলাদা করে কোন মাসে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে তা মাপার কোনও ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র যারা মাসে ৭৫ ইউনিট বা তার কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যারা ৭৫.০১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন তাদের পুরো ৭৫.০১ ইউনিটেরই দাম দিতে হবে। কোনও ছাড় মিলবে না।

হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে কোনও গৃহস্থ বাড়িতে বিদ্যুৎ মাশুল ছাড় পাওয়া সম্ভব নয়। যদি কোনও বাড়িতে গড়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎও ব্যবহার হয়। অর্থাৎ একটি ফ্যান ও একটি CFL বাতি, তাহলেও বিদ্যুতের বিল হবে দিন প্রতি ১.৮ ইউনিট। অর্থৎ ৩ মাসে ১৬২ ইউনিট। অর্থাৎ ছাড়ের সীমার প্রায় দ্বিগুণ। হিসাব বলছে তিন মাসে ৭৫ ইউনিট হিসাবে দিনপ্রতি হিসাব বেঁধে রাখতে হবে ০.৮৩ ইউনিটে। অর্থাৎ ঘণ্টায় গড়ে ৪৬ ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারবেন না আপনি।

হিসাব বলছে, একমাত্র যাদের একাধিক বাড়ি রয়েছে, তারাই এই প্রকল্পে ছাড় পেতে পারেন। বাড়িতে টানা তিন মাস না থাকলে আসবে না কোনও বিদ্যুতের বিল। কারণ সেক্ষেত্রে কোনও বিদ্যুৎ খরচই থাকবে না।


বন্ধ করুন