বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের
গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের

  • বেহালার জয়শ্রী পার্কের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে একটি বড় পুকুরে পড়ে গিয়ে গাড়িটি ডুবে যায়।

কথায় বলে, ‘‌নিয়তি কেউ ঠেকাতে পারে না।’‌ এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটল শহরে। চালককে পাশে বসিয়ে নিজের গাড়ি চালানো শিখছিলেন কলকাতা পুরসভার এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। বেহালার জয়শ্রী পার্কের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে একটি বড় পুকুরে পড়ে গিয়ে গাড়িটি ডুবে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে নেমে দু’জনকে উদ্ধার করে এলাকার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে ওই অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। চালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাছাড়া কীভারে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকী চালক থাকা সত্ত্বেও গাড়ি পুকুরে পড়ে গেল কীভাবে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। এখানে ঠিক কী ঘটেছিল চালক সুস্থ হলেই জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই পুকুরের লাগোয়া এলাকায় বাড়ি কলকাতা পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার অশোক রায়ের (৬৪)। মঙ্গলবার সকাল ন'টা নাগাদ অশোক পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ডেকে পাঠান। অশোকবাবু যখন গাড়ি নিয়ে বেরোতেন, সুভাষই তাঁর গাড়ি চালাতেন বলে জানান মৃতের ভাগ্নে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। সুভাষের ভাই শুভদীপ বলেন, ‘দাদা পার্ট টাইম ড্রাইভার। অশোকবাবুর গাড়ি দাদাই চালাতেন। ওঁকে অফিসে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে বাজারহাট সবই করেন। এখন দাদা একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন।’‌

পুলিশ সূত্রে খবর, সুভাষ তাঁকে গাড়ি চালাতে বারণ করলেও অশোক কথা কানে নেননি। রাজশ্রী পার্ক থেকে পদ্মপুকুরের দিকে ঢুকে ডানদিকে বাঁক নিতে গিয়েই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাস্তার বাঁদিকে ছোট পাঁচিলে ধাক্কা মারার পরে গাড়িটি একটি গাছেও ধাক্কা মেরে একেবারে পুকুরে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা পুকুরে নেমে গাড়ি থেকে অশোক ও সুভাষকে তুলে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অশোককে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে সুভাষকে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অশোকের দুই ছেলে। বড় ছেলে অরিন্দম রায় বেঙ্গালুরুতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ছোট ছেলে অভিষেক পোশাক ডিজাইনার। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে অরিন্দম বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতা এসে পৌঁছে গিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয়েরা গাড়ি চালানো শিখতে এই পদ্মপুকুরের চারপাশের রাস্তাকে বেছে নেন। কিন্তু পুরসভার পক্ষ থেকে পুকুরের চারপাশ ভালোভাবে উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরার ব্যবস্থা করলে এই ধরনের দুঘর্টনা এড়ানো যায়। দুর্ঘটনার প্রায় দু’ঘণ্টা পরে ক্রেনের সাহায্যে পুকুর থেকে গাড়িটি তোলা হয়।

বন্ধ করুন