বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগের পর বিজেপির পদক্ষেপ কী হবে?‌ জানুন
যোগ দিয়েছে পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে।
যোগ দিয়েছে পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে।

মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগের পর বিজেপির পদক্ষেপ কী হবে?‌ জানুন

  • তারপরই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে। আজ আবার তিনি নিজেই জুড়ে দিলেন।

চাণক্য বিদায় নিয়েছে বিজেপি থেকে। যোগ দিয়েছে পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে। এখন রাজ্য–রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মুকুল রায় চলে যাওয়ার পর বিজেপির কী হবে?‌ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ–সভাপতি পদে কে বসবেন?‌ এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অলিন্দে। কারণ বিজেপিতে এই পদের গুরুত্ব অসীম। আর তাই মুকুল রায়ের বিজেপি ত্যাগে দিল্লিতেও আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই মুকুল রায়ই ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমীর সকালে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দেবীর বোধনের আগেই দিয়েছিলেন ‘বিসর্জন’ বার্তা। বলেছিলেন, ‘‌দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দিচ্ছি।’‌ তারপরই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে। আজ আবার তিনি নিজেই জুড়ে দিলেন।

জানা গিয়েছে, যে নেতারা দীর্ঘদিন সকাল–বিকেল মুকুল রায়কে ফোন করতেন, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর কিংবা তিনি নিজে করোনায় আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কোনও যোগাযোগ করেননি। শুক্রবার সকাল থেকেই মুকুলকে নিয়ে জল্পনা শুরু হতেই বিজেপির পক্ষ থেকে নানা জনের ফোন আসতে থাকে মুকুলের কাছে। সেই তালিকায় রাজ্য বিজেপির নেতারা যেমন ছিলেন, ছিলেন বিজেপির এই রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও। এমনকী দিল্লির বেশ কয়েকজন নেতাও ফোন করেছিলেন মুকুলকে। কিন্তু ততক্ষণে তৃণমূল ভবনে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন মুকুল রায়। ফলে বিজেপির পক্ষ থেকে যা ফোন এসেছে, তার একটিও ধরেননি মুকুল। এড়িয়ে গিয়েছেন।

এখান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, মুকুল রায়ের গুরুত্ব রয়েছে কেন্দ্রীয় স্তরে। আর তাই তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করা হয়েছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, এখন রাজ্য বিজেপির যা হাল তা যদি শুধু দিলীপ ঘোষের উপর ছেড়ে রাখা হয় তাহলে হিতে–বিপরীত হবে। ইতিমধ্যেই ভোকাল টনিক দিয়েছেন বিজেপির পরাজিত প্রার্থী তথা রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসেছেন। বাংলা থেকেই কী কাউকে মুকুলের ছেড়ে যাওয়া পদে বসানো হবে?‌ জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এখন বিধায়ক সংখ্যা কমে গেল। বিজেপির এখন বিধায়ক সংখ্যা ৭৪।

ভাবা হয়েছিল মুকুল রায়কে আটকানো যাবে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুকুল রায়। তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, ‘‌জল্পনা নিয়ে কোনও কথা বলব না।’‌ কিন্তু তারপর জল্পনা সত্যি হলেও তিনি আর মুখ খোলেননি। মুখ খুলতে চাইছে না রাজ্য বিজেপিও। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌এখনও হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া। তাঁদের ঘরে ফেরানোই এখন মূল কাজ।’‌ সুতরাং মুকুল রায়ের চলে যাওয়ায় যে ড্যামেজ তৈরি হল তা কন্ট্রোল করতে পারছেন না বিজেপি নেতারা। সুতরাং কোনও এক আশ্বিনের শারদপ্রাতে দলবদলের যে ছবি বাংলা দেখেছিল, তারই অদ্ভূত সমাপতনের দেখা মিলল জ্যেষ্ঠের বাদলবেলায়। শুধু রাজ্য নয়, এই ছবি দিল্লিতে বসেও দেখছেন অনেকেই।

বন্ধ করুন