বাংলা নিউজ > কর্মখালি > চাকরি ছেড়ে অনলাইন কেক ডেলিভারি, দশ বছরে ৭৫ কোটির ব্যবসা ৩ বন্ধুর
ফাইল ছবি: বেকিংগো (BakingGo)

চাকরি ছেড়ে অনলাইন কেক ডেলিভারি, দশ বছরে ৭৫ কোটির ব্যবসা ৩ বন্ধুর

মাত্র ২ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে কেকের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিন বন্ধু। আজ সেই সংস্থাই দেশের ১১টি শহরে ছড়িয়ে। বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৭৫ কোটি টাকা! কাজ করেন ৫০০ কর্মী।

আজকাল অনেকেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ছোটখাটো বেকারির ব্যবসা করেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই ব্যবসা বাড়ির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে চেষ্টা করলে যে এমন ব্যবসাও কোটি টাকার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার প্রমাণ বেকিংগো(Bakingo)।

মাত্র ২ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে কেকের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিন বন্ধু। আজ সেই সংস্থাই দেশের ১১টি শহরে ছড়িয়ে। বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৭৫ কোটি টাকা! কাজ করেন ৫০০ কর্মী।

নয়াদিল্লির নেতাজি সুভাষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বন্ধু - হিমাংশু চাওলা, শ্রেয় সেহগাল এবং সুমন পাত্রের সংস্থা এটি। ২০০৬-০৭ সালে তাঁরা কলেজ শেষ করেন। তারপর যে যাঁর মতো কর্পোরেট চাকরিতে কয়েক বছর কাটিয়ে দেন। কিন্তু নিজেদের স্বাধীন ব্যবসা করার ইচ্ছাটা বরাবরই ছিল। তবে ছকে বাঁধা কোনও ব্যবসা নয়। তাঁরা একেবারে অন্যরকম কিছু করতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তাঁদের প্রথম উদ্যোগ 'ফ্লাওয়ার আউরা'র প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি অনলাইন ফুল, কেক এবং পার্সোনালাইজড উপহারের কোম্পানি। ২০১০ সাল থেকেই ব্যবসা শুরু হয়। প্রথমে হিমাংশু এবং শ্রেয় মিলেই ব্যবসা শুরু করেন। এক বছর পর যোগ দেন সুমন।

সেই সময়ে, আমাদের মাত্র একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি একাই গ্রাহক পরিষেবা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করতেন। আবার অপারেশন এবং ডেলিভারিও দেখভাল করতেন।

সাধারণ ব্যবসা। তা-ও অনলাইন। অনেকেই হয় তো তাঁদের এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তেই এই ব্যবসার তুমুল সম্ভাবনার আন্দাজ মেলে। সেদিন অর্ডারের চাপে কার্যত নাকানিচোবানি খেয়েছিলেন তাঁরা। মালিকদের নিজেদেরই হাতে করে প্যাকিং, ডেলিভারি করতে হয়েছিল। দিল্লিতে বাড়ি বাড়ি কেক, গিফট, ফুল পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁরা।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে ভাল পারফরম্যান্সের কারণে, সেই সময় থেকেই নাম ছড়াতে শুরু করে তাঁদের। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুত বাড়তে থাকে ব্যবসা। এর মধ্যেই, তাঁরা কেকের চাহিদার বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

আসলে এভাবে কেকের চেন রেস্তোরাঁর সংখ্যা কম। তাছাড়া এমন একটা পার্সোনালাইজড অভিজ্ঞতাও খুব একটা পাওয়া যায় না। আর সেই থেকেই নয়া ব্যবসার বুদ্ধি আসে তাঁদের। কেকের ব্যবসাটা সম্পূর্ণ আলাদা করে ভাবতে শুরু করেন।

সেই ভাবনা থেকেই ২০১৬ সালে তাঁরা বেকিংগো(Bakingo) চালু করেন।

শুধুমাত্র হায়দরাবাদ, ব্যাঙ্গালুরু এবং দিল্লি এনসিআর-এর মতো বড় শহরই নয়। পানিপথ, রোহতক এবং কার্নালের মতো টিয়ার-টু শহরেও কেক ডেলিভারি করে বেকিংগো। ক্লাউড কিচেন পন্থায় চলে ব্যবসা।

বেকিংগোর বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশই তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হয়। বাকি ৭০ শতাংশ বিক্রি হয় বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ, যেমন সুইগি এবং জোমাটোর মাধ্যমে।

এক সময়ে ২ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে চলা শুরু করেছিলেন তিন বন্ধু। আর ২০২১-২২ অর্থবর্ষে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার টার্নওভার বেকিংগোর। এক সময়ে একজন মাত্র কর্মী কাজ করতেন। মালিকরা নিজেরাই বাড়ি গিয়ে ডেলিভারি করে এসেছেন। আর আজ তাঁদের সংস্থায় মোট কর্মী প্রায় ৫০০ জন। Bakingo এই বছর দিল্লিতে তার প্রথম অফলাইন আউটলেটও খুলেছে।

বেকিংগোর এই পথ চলার কাহিনী যে আগামিদিনের ব্যবসায়ীদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে, তা বলাই বাহুল্য।

বন্ধ করুন