বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > প্রার্থীতালিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ–অশান্তি, রাতভর বৈঠকে শাহ–নড্ডারা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

প্রার্থীতালিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ–অশান্তি, রাতভর বৈঠকে শাহ–নড্ডারা

  • একসঙ্গে এত প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় রাজ্য বিজেপির নেতাদের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফর চলাকালীনই প্রার্থী বাছাই ঘিরে কার্যত ‘গৃহযুদ্ধ’ বেঁধে গেল বঙ্গ–বিজেপির অন্দরে! সোমবার কলকাতায় দলীয় কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল হেস্টিংসের নির্বাচনী কার্যালয়। এদিনই প্রথমে হেলিকপ্টার খারাপ হয় আর বিপাকে পড়েন অমিত শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিল করার প্রশ্নে মুখ পোড়ে। তার মধ্যে প্রার্থীতালিকা নিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মুকুল রায়, শিবপ্রকাশ, অর্জুন সিং, সব্যসাচী দত্তরা। একসঙ্গে এত প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় রাজ্য বিজেপির নেতাদের। ভোটযুদ্ধ শুরুর আগেই এভাবে ঘরের ঝামেলা প্রকাশ্যে আসায় বেশ বেকায়দায় বঙ্গ বিজেপি। সবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম চারটি দফা মিলিয়ে ১২৩ জনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে। বাকি এখনও ১৭১টি আসন। এখনই যদি এই অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থী ঘোষণার পর ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হবে? উঠছে প্রশ্ন।

হুগলির চুঁচুড়ায় ভাঙচুর করা হল জেলা সাংগঠনিক অফিস। এক মণ্ডল সভাপতিকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বঙ্গ নেতৃত্বের কাছ থেকে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে। এই বেনজির পরিস্থিতিতে গুয়াহাটি গিয়েও কলকাতা ফিরে আসেন অমিত শাহ। রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে গভীর রাতেই বৈঠক হয়। সেখানে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ–সহ বঙ্গ–নেতারা। কথাবার্তা গড়ায় ভোররাত পর্যন্ত। মঙ্গলবার সকালেও এক রাউন্ড কথা হয় পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য।

রবিবার তৃতীয় এবং চতুর্থ দফা নির্বাচনের ৭৫টির মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে পদ্মশিবির। তারপর থেকেই সিঙ্গুর, চুঁচুড়ায় বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ কার্যত মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছিল। ক্ষুব্ধ শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পরবর্তী প্রার্থী তালিকাতেও সাংসদদের নাম থাকা নিয়ে তুমুল জল্পনা ছড়িয়েছে। সেই ক্ষোভের আঁচ এসে পড়ে কলকাতায়। হেস্টিংসে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা–সহ একাধিক জেলা থেকে কর্মী–সমর্থকরা।

প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষকে ঘিরে রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক করতে বাধ্য হন বিজেপি নেতারা। সেখানে যোগ দেন জেপি নড্ডাও। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এই ঘটনায় চিন্তিত অমিত শাহ, জেপি নড্ডারা দলীয় নেতাদের কথা শুনেছেন। এমনকী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সমস্যা মেটানোর সময়ও বেঁধে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিক্ষুব্ধদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের এক দলবদলু নেতা এই দুই কেন্দ্রে নিজের পছন্দের প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। অথচ, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বিজেপির সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছেন, সেই আদি নেতারা তালিকায় নেই। সন্ধ্যায় রায়দিঘি কেন্দ্রের প্রার্থী বদলের দাবিতে ফের এক দফা বিক্ষোভ হয়। পার্টি অফিসে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ, এমপি অর্জুন সিং–সহ একাধিক নেতা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা জানান, সোমবার রাতে জরুরি বৈঠক হয়েছিল অমিত শাহ–জেপি নড্ডার সঙ্গে। রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালেও বৈঠক রয়েছে।

একাধিক জেলাতেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা–কর্মীরা। তবে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে হেস্টিংসে। রায়দিঘির প্রার্থী শান্তনু বিপুলি বিজেপিতে এসেই প্রার্থীপদ পেয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল অনেকের। বিজেপি চাইছে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে। অর্জুন সিং জানান, ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের বক্তব্য দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’ ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অবশ্য বলেন, ‘নির্বাচন পর্বে রাজনৈতিক কর্মীরা টিকিট চাইবেন, এটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে যে রাজ্যে দলের জেতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানে এই ঘটনা ঘটবে।’

বন্ধ করুন