বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > অভিনয় কেরিয়ার সামলেই পিএইচডি! ‘জুন আন্টি’ ঊষসীর নয়া কীর্তি
সাবাশ (ছবি-ফেসবুক)
সাবাশ (ছবি-ফেসবুক)

অভিনয় কেরিয়ার সামলেই পিএইচডি! ‘জুন আন্টি’ ঊষসীর নয়া কীর্তি

  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডির ডিগ্রী অর্জনের দোরগোড়ায় ঊষসী চক্রবর্তী। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘রাজনীতিতে লিঙ্গবৈষম্য’।

নতুন পালক অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীর মুকুটে। হ্যাঁ, এই টলি অভিনেত্রী যা করে দেখিয়েছেন তাঁকে বেনজির কীর্তিও বলা চলে। অভিনয় কেরিয়ার সামনে পিএইচডির ডিগ্রী অর্জন কি চাড্ডিখানি কথা! একেবারেই নয়। তবে সেই কাজটাই সাফল্যের সঙ্গে করে দেখাতে চলেছেন ছোটপর্দার ‘জুন আন্টি’। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডির ডিগ্রী অর্জনের দোরগোড়ায় ঊষসী। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘রাজনীতিতে লিঙ্গবৈষম্য’। হ্যাঁ, বাম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর সুযোগ্য কন্যা তাঁর গবেষণার বিষয় হিসাবে বেছেছিলেন এমনই একটি বিষয়। সত্যি মেয়েরা কি সামন সুযোগ পায় রাজনীতিতে? নাকি তথাকথিক পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় রাজনীতির ক্ষেত্রে সুযোগের বিষয়ে এগিয়ে থাকে ছেলেরা। এই নিয়েই গত পাঁচ বছর ধরে বিস্তর গবেষণা চালিয়েছেন ঊষসী। আর সম্প্রতি সেই থিসিস পেপার তিনি জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

অভিনেত্রীর কথায়, শ্রীময়ীর শ্যুটিংয়ের ফাঁকেও মেক আপ রুমে বসে থিসিস পেপার লিখতেন তিনি। এমনকি প্রয়োজনে শ্যুটিংয়ের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে গবেষণার জন্য ফিল্ড ওয়ার্কও করেছেন। তবে অন্য সময় অবশ্য শ্যুটিংয়ের কাজটা এক নাগাড়ে শেষ করে সামলে দিয়েছেন। এইভাবে দিনের পর দিন ব্যালেন্স করে শ্যুটিং আর পিএইচডি সামলেছেন ঊষসী।

এই উপলব্ধির মাঝও হালকা মন খারাপ অভিনেত্রীর। কারণ মেয়ের এই পিএইচি সম্পন্ন করবার কাজটা দেখে যেতে পারলেন না শ্যামল চক্রবর্তী। অগস্ট মাসের শুরুতেই করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সিটু নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী।

রবিবার ফেসবুকের দেওয়ালে তাই বাবার কথা স্মরণ করে ঊষসী লিখলেন-

'খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি এক দেড় মাস। গত এক বছর নানা সময়ে বাবা জানতে চেয়েছেন কবে থিসিস জমা দেব। উত্তর দিতে পারিনি। তখনও কাজ শেষ হয়নি। তারপর মার্চ মাস থেকে লক ডাউন। অনিশ্চিত হয়ে ছিল ভবিষ্যত। কবে ইউনিভারসিটি খুলবে, কবে জমা দেব কেউ বলতে পারত না। জুলাই মাসে যখন শুনলাম অনলাইন জমা হচ্ছে বললাম ‘একটা মাস একটু সুস্থ থাক বাবা। সেপ্টেম্বরে জমা দেব ’। বললেন ওরে ‘বাবা সেপ্টেম্বর মানে তো এখনও দু মাস।অনেক দেরী’।

অনেক মানে ঠিক কতোটা ? অনেক মানে কি আসলে কোনওদিনও না ? সারা জীবন এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে না।

৬ই অগস্ট বাবা চলে যাওয়ার দিন সত্যিই ভবিনি সময় মত জমা দিতে পারব। তবু দেখলাম, চরম ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মধ্যেও অবিচল থাকার শিক্ষা নিজের অজান্তেই কোথাও একটা প্রোথিত হয়ে গেছে। খুব মুল্যবান এই শিক্ষা। যারা পাশে ছিলেন ধন্যবাদ জানিয়ে আর ছোট করব না'।

পিএইচডির ডিগ্রী লাভের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত ঊষসী নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও একটা গুরুত্বপূর্ন টিপস দিয়েছেন। অভিনেত্রী বলেন- ‘নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের বলতে চাই পড়াশোনার সঙ্গে অভিনয়ের কোনও বিরোধ নেই। দুটোই একসঙ্গে চালানো যেতে পারে’।

বন্ধ করুন