বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘সবসময় মাদার টেরিজা হতে হবে?’ মিস ইউনিভার্সকে মঞ্চে 'মিউ মিউ'র প্রসঙ্গে সরব লারা
হারনাজকে সঞ্চালক স্টিভ হার্ভির ''মিঁউ মিঁউ' করার নির্দেশ নিয়ে এবার মুখ খুললেন লারা দত্ত ।(ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)

‘সবসময় মাদার টেরিজা হতে হবে?’ মিস ইউনিভার্সকে মঞ্চে 'মিউ মিউ'র প্রসঙ্গে সরব লারা

  • মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা চলাকালীন এক জায়গায় হারনাজের সঙ্গে তারকা সঞ্চালক স্টিভ হার্ভির ব্যবহার দেখে দর্শকের একাংশ বেজায় ক্ষুব্ধ।এবার এই ব্যাপারে মুখ খুললেন লারা দত্ত।

মিস ইউনিভার্স ২০২১ খেতাব জয়ী হারনাজ সান্ধুকে নিয়ে এখন মেতে আছে গোটা দেশ। আর হবে নাই বা কেন, ২১ বছর পর ভারতে এই শিরোপা এনেছেন হারনাজ। ইজরায়েলে ৭৯টি দেশের প্রতিযোগীদের পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছেন সেরার শিরোপা। আগে মাত্র দু'জন ভারতীয় মহিলা মিস ইউনিভার্সের খেতাব জিতেছেন। অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন ১৯৯৪ সালে এবং লারা দত্ত ২০০ সালে মুকুট পরেছিলেন মাথায়।

হারনাজের এই জয়ে গর্বিত গোটা ভারতবাসী। তবে একইসঙ্গে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা চলাকালীন এক জায়গায় হারনাজের সঙ্গে তারকা সঞ্চালক স্টিভ হার্ভির ব্যবহার দেখে দর্শকের একাংশ বেজায় ক্ষুব্ধ। তাঁদের মনে হয়েছে সঞ্চালকের সেই ব্যবহারে কোথাও না কোথাও অসম্মান প্রদর্শন করেছে হরনাজের উদ্দেশে। প্রথম থেকেই বলা যাক বিষয়টি। প্রতিযোগিতার মাঝে হারনাজকে ডেকে তাঁকে নিজের বিশেষ এক 'প্রতিভা' দর্শকদের সামনে পেশ করার নির্দেশ দেন স্টিভ। সেটি কী? না, বিড়ালের মতো ডেকে উঠতে হবে হারনাজকে। সামান্য অবাক হলেও হাসিমুখে স্টিভের সেই নির্দেশ পালন করেন হারনাজ। তাঁর গলায় পেশাদার হরবোলাদের মত বিড়ালের 'মিঁউ মিঁউ' ডাক শুনে ততক্ষণে মুগ্ধ স্টিভ সহ বাকি প্রতিযোগী ও বিচারকের দল। এবার এই ব্যাপারে মুখ খুললেন লারা দত্ত।

এ প্রসঙ্গে লারা জানান মিস ইউনিভার্স-এর ফর্ম যখন প্রতিযোগীরা পান, তখন তাতে অন্তত ১৫টি হরেক কিসিমের প্রশ্ন থাকে।সেখানে নিজের বিষয়েও নানান ব্যাপার জানাতে হয়। লারা যেমন নিজের ফর্মে লিখেছিলেন তিনি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ভারতনাট্যম এবং কত্থক নৃত্যশিল্পী। এরপর প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাঁকেও এই নৃত্যের কিছু স্টেপস করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে লারা জানিয়েছিলেন যেহেতু তিনি গাউন পরে আছেন, তাই এই পোশাকে ভারতনাট্যম কিংবা কত্থক নাচলে তা ওই নৃত্যশৈলীর অপমান করা হবে। তাই এর বদলে হাতের বেশ কিছু নৃত্যের মুদ্রা দেখিয়েছিলেন। লারার কথায় জানা যায়, প্রতিযোগীদের মানসিক চাপ কাটাতেই এইরকম মজার, হালকা চালের প্রশ্নত্তোর করা হয় মঞ্চে। লারার কথায়, 'মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার প্রতিটি প্রশ্নেই বিশ্বকে বাঁচানো কিংবা মাদার টেরেসা হতে চাই জবাবের খোঁজ করা হয় না। মজা ঠাট্টাও করা হয়। প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্বের নানান দিকগুলো ফুটিয়ে তোলাই এই মঞ্চের অন্যতম উদ্দেশ্যে।'

এই ব্যাপারে মুখ খুললেন মিস ইউনিভার্স ২০২১ স্বয়ং। সরাসরি জানিয়েছেন স্টিভের ওই ব্যবহারে তিনি এতটুকুও অস্বস্তি বোধ করেননি। বরং তাঁকে বিড়ালের মতো ডেকে উঠতে বলে তিনি বেশ খুশি হয়েছিলেন। নিজের বক্তব্যের জন্য হারনাজের সাফাই, 'কেউ যদি মনে করেন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র সবদিক থেকে নিখুঁতদের জন্যই, তাহলে তিনি মস্ত বড় ভুল করবেন। আমি যেন মঞ্চে কোনও রাখঢাক না রেখে নিজের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে পেশ করতে পারি কোনও কুন্ঠা ছাড়া তার জন্যেই স্টিভ ওই কাণ্ডটি করেছিলেন। সেইসঙ্গে নিজের এই 'প্রতিভা'টিও মেলে ধরতে পারি মানুষের সামনে। তাই স্টিভের কথানুযায়ী এই ব্যাপারটি করার পর মঞ্চে আরও বেশি মনের জোর পেয়েছিলাম। সামান্য অস্বস্তিটুকুও দূর হয়ে গেছিল।'

বন্ধ করুন