আমাকে কেন ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে? উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন মাহিরার (সৌজন্যেঃইন্সটাগ্রাম)
আমাকে কেন ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে? উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন মাহিরার (সৌজন্যেঃইন্সটাগ্রাম)

'আমাকে কেন ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে?', পুরস্কার বিতর্কে জবাব মাহিরার

  • নিজের সার্টিফিকেট যে ভুয়ো তা মেনে নিয়েছেন মাহিরা। তবে গোটা ঘটনার জন্য তিনি নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করেছেন।

দাদাসাহেব ফালকে ফাউন্ডেশনের তরফে পুরস্কৃত হওয়ার ভুয়ো খবর রটিয়ে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়েছেন বিগ বস ১৩-র চর্চিত প্রতিযোগী মাহিরা শর্মা। গোটা ঘটনা নিয়ে বিতর্ক থামার নাম নেই। মঙ্গলবার দাদাসাহেব ফালকে ফাউন্ডেশনের তরফে ইন্সটাগ্রামে এক খোলা চিঠিতে দাবি করা হয় ভুয়ো সার্টিফিকেটের পোস্টটি ইন্সটাগ্রাম থেকে ডিলিট করে দিলেও এখনও ক্ষমা চাননি মাহিরা শর্মা। এর জবাব দিলেন মাহিরা। অভিনেত্রী ইন্সটাগ্রামে পাল্টা ‘দাদা সাহেব ফালকে আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সম্মানীয় উদ্যোক্তা’ বিবৃতি জারি করেন , লেখেন- এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে সার্টিফিকেট আমাকে দেওয়া হয়েছিল সেটা ভুয়ো, যেটা আপনারা উল্লেখ করেছেন এবং আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু যখন আমি ২০২০-র ২০শে ফেব্রুয়ারি সেটা গ্রহণ করেছিলাম আমি তেমনটা জানতাম না। আপনারা এমনটাও বলেছেন আমি নাকি পোস্টটা মুছে দিয়েছি-কিন্তু আমি ওটা ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে আপলোড করেছিলাম। যার সময়সীমা ২৪ ঘন্টা। যদি আমি জানতাম ওটা ভুয়ো সার্টিফিকেট তাহলে কী ওটা আমি ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করতাম?



দাদাসাহেব আন্তর্জাতিক চলচিত্র উত্সবে মোস্ট ফ্যাশনেবল বিগ বস প্রতিযোগীর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মাহিরা শর্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কথাই বলেছিলেন মাহিরা। কিন্তু এই কথা সম্পূর্ন মিথ্যা এমনটাই দাবি করে মাহিরাকে ক্ষমা চাইতে বলেন এই চলচ্চিত্র উত্সবের উদ্যোক্তারা।

মাহিরা তাঁর খোলা চিঠিতে আরও জানিয়েছে, 'আমি আগেই জানিয়েছে এব্যাপারে আমার কোনও দোষ নেই। আমাকে অন্যজন মিথ্যা বলেছিল। সেই তৃতীয় ব্যক্তি প্রেমল মেহতা এখন জেলে রয়েছে এবং নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে শুরুতেই। এটা একটা সামান্য ত্রুটি এবং এই ঘটনার জন্য অবস্থাকে দায়ী করতে হবে আমাকে নয়। যাদের দোষ তারা স্বীকার করে নিয়েছে এবং সেই কাজের ফল ভোগ করছে। তাহলে আমি বুঝতে পারছি না আমাকে কেন বারবার ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হচ্ছে'?

তিনি আরও যোদ করেন, 'আমি মানছি আমার একটা দোষ রয়েছে। মঞ্চের বাইরে সেই সার্টিফিকেট গ্রহণ করা আমার উচিত হয়নি। কিন্তু আমি জানতাম যে ব্যক্তি আমাকে ওখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং যে ওখানকার সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল যে আদতে দাদাসাহেব আন্তর্জাতিক চলচিত্র উত্সব কমিটির সদস্য নয়। আমি জানতে নিশ্চয় সেই সার্টিফিকেট গ্রহণ করতাম না। আমি এই ভুয়ো সার্টিফিকেট ফিরিয়ে দিতে চাই এবং এটাকে একটা শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসাবে মনে রাখতে চাই। এবং একজন শিল্পী হিসাবে ভবিষ্যতে এই পুরস্কারে আমি অবশ্যই সম্মানিত হতে চাইব তবে কেবলমাত্র দাদাসাহেব ফালকে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের তরফে'।

এর আগে রবিবার মাহিরার সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ জাল বলে দাবি করে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয় মাহিরা অনুষ্ঠানে এলেও কোনও পুরস্কার পাননি। এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ভুয়ো পোস্ট ডিলিট করে ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সাফ জানানো হয় তাদের তরফে।



এই গোটা ঘটনার দায় স্বীকার করে নেন প্রেমল মেহতা মানে এক আর্টিস্ট ম্যানেজার। তবে তা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় দাদাসাহেব ফালকে চলচ্চিত্র উত্সব কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, ভুয়ো সার্টিফিকেট গ্রহণ করে দাদা সাহেব ফাউন্ডেশনের মর্যাদাহানি করেছেন মাহিরা। তাঁর এই অশোভন ও অনৈতিক আচরণের জন্য অভিনেত্রীকে ক্ষমা চাইতেই হবে।





বন্ধ করুন