বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘হাওয়া হাওয়াই’ থেকে ‘ডোলা রে ডোলা’, অসংখ্য হিট গানে ছড়িয়ে সরোজের জাদুস্পর্শ
 .বলিউডের একাধিক নায়িকার গ্ল্যামারের বিকাশ ঘটেছিল সরোজ খানের নৃত্য মুন্সিয়ানায়। 
 .বলিউডের একাধিক নায়িকার গ্ল্যামারের বিকাশ ঘটেছিল সরোজ খানের নৃত্য মুন্সিয়ানায়। 

‘হাওয়া হাওয়াই’ থেকে ‘ডোলা রে ডোলা’, অসংখ্য হিট গানে ছড়িয়ে সরোজের জাদুস্পর্শ

কেরিয়ারে ২,০০০ এর বেশি গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন সরোজ খান। দিয়েছেন অগুনতি হিট। তিন বার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কোরিওগ্রাফার সরোজ খান। শুক্রবার মালাডে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

পঞ্চাশের দশকে নেপথ্য নৃত্যশিল্পী হিসেবে তাঁর পেশাদার জীবনের সূত্রপাত। ১৯৭৪ সালে ‘গীতা মেরা নাম’ ছবির হাত ধরে পেশাদার কোরিওগ্রাফার হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। গোটা কেরিয়ারে ২,০০০ এর বেশি গানেক কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। তিন বার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। পিছু ফিরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর কোরিওগ্রাফি সমৃদ্ধ জনপ্রিয় কয়েকটি গানের দৃশ্য।

১) তেজাব ছবিতে ‘এক দো তিন’  (১৯৮৮)

অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে দীর্ঘ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সরোজ খানের। একের পর এক হিট গানের নাচের দৃশ্যে এই জুটি সফল হয়েছেন, যার শুরুয়াৎ হয়েছিল এই গান দিয়ে। গানের প্রেক্ষাপট ছিল ছবির নায়িকা মোহিনীকে জোর করে দর্শকের সামনে নাচতে বাধ্য করা। যে কোনও সাধারণ ছবিতে এমন দৃশ্যে যৌনতার সুড়সুড়ি থাকতে পারে, কিন্তু সরোজের অসামান্য নৃ্ত্যভঙ্গী এবং মাধুরীর ভুনবিখ্যাত মোহময়ী হাসি এই দৃশ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

২) মিস্টার ইন্ডিয়া ছবিতে ‘হাওয়া হাওয়াই’ (১৯৮৭)

আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয়তম এই গানের দৃশ্য সুপার স্টার শ্রীদেবীকে ‘হাওয়া হাওয়াই গার্ল’ হিসেবে দর্শক-হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন পেতে সাহায্য করে। ছবির এই দৃশ্যের আবহে ছিল সাংবাদিক সীমার (শ্রীদেবী) স্মাগদলারদের গোপন ঘাঁটিতে প্রবেশ করার কৌশল, যেখানে সে নিজেকে একজন দক্ষ হাওয়াইয়ান নর্তকী হিসেবে পরিচয় দেয়। জাভেদ আখতারের অনবদ্য শব্দ চয়ন, লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের চনমনে সুর, শ্রীদেবীর অভিনব দেহভঙ্গী এবং সেই সঙ্গে সরোজ খানের হৃদয়জয়ী নৃত্যশৈলী গানটিকে সর্বকালের অন্যতম হিট গান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছিল।

দেবদাস ছবিতে ‘ডোলা রে ডোলা’ (২০০২)

২০১৮ সালে ব্রিটেনের ‘ইস্টার্ন আই’ সংবাদপত্রের এক সমীক্ষায় সঞ্জয় লীলা বনশালির দেবদাস ছবির ‘ডোলা রে ডোলা’ গানটি সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় হিট নাম্বার হিসেবে নির্বাচিত হয়। সরোজ খানের সৌন্দর্যে মোড়া কোরিওগ্রাফি, অপূর্ব সেট, শ্রেয়া ঘোষালের মিষ্টি কণ্ঠস্বর ও গায়নভঙ্গী এবং অবশ্যই মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের চোখ-ধাঁধানো উপস্থিতি গানের দৃশ্যটিকে শুধুমাত্র ছবির ইউএসপি বানিয়েই ছাড়েনি, তা ছাড়াও এই গানকে দর্শকের চোখে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

৪) বেটা ছবির ‘ধক ধক করনে লাগা’ (১৯৯২)

বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ হিসেবে এখনও মাধুরী দীক্ষীতের খ্যাতি ভোলার নয়। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় গানের দৃশ্যে প্রথম দিকেই স্থান রয়েছে ‘ধক ধক’-এর। এই গানের দৃশ্যে আরও একবার কামাল করেছিলেন সরোজ-মাধুরী জুটি। অনেকেই জানেন না, প্রথমে ৬ দিন ধার্য করা হলেও গানের দৃশ্যটি মাত্র তিন দিনে শ্যুট করা হয়েছিল। 

৫) যব উই মেট ছবির ‘ইয়ে ইশক হায়’ (২০০৮)

করিনা কপুর অভিনীত এই গানের কোরিওগ্রাফির জন্য তৃতীয় বার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন সরোজ খান। হিমাচল প্রদেশের বরফে মোড়া প্রেক্ষাপটে শ্যুট করা এই দৃশ্য ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

এমনই আরও অসংখ্য জনপ্রিয় গানে বলিউড নায়িকাদের দেহ-বিভঙ্গকে শিল্পের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে বার বার নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সরোজ খান। রুপোলি পর্দার ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বন্ধ করুন