বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > সৌমিত্রর হাতের লেখা পালটে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, জানালেন সন্দীপ রায়
একইসঙ্গে সত্যজিৎ রায় এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য টুইটার)
একইসঙ্গে সত্যজিৎ রায় এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য টুইটার)

সৌমিত্রর হাতের লেখা পালটে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, জানালেন সন্দীপ রায়

  • নিজের 'সৌমিত্রকাকা'-য় মুগ্ধ সন্দীপ রায়।

কলকাতা : একাধিক চিঠি লেখার শট ছিল 'চারুলতা'-য়। সেজন্য ক্যালিগ্রাফিস্টের সাহায্য অনায়াসেই নিতে পারতেন সত্যজিৎ রায়। কিন্তু নেননি। বরং সেই শটগুলির জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতের লেখার ধরন পালটে দিয়েছিলেন তিনি। এমনই অজানা কথা জানালেন সন্দীপ রায়।

আরও পড়ুন : রত্নার হাতের লুচি-পায়েস খুব পছন্দ ছিল, সৌমিত্র তর্পণে স্মৃতিচারণা অশোকের

রবিবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৌমিত্রবাবু। আনন্দবাজার পত্রিকায় নিজের 'সৌমিত্রকাকা'-কে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন সত্যজিৎবাবুর পুত্র। সত্যজিৎবাবুর একাধিক সিনেমার শুটিংয়ের সময়কার নানা অজানা কথা তুলে ধরেন। সন্দীপবাবু জানান, সৌমিত্রবাবুর হাতের লেখা পালটে দিয়েছিলেন সত্যজিৎবাবু। 'চারুলতা'-য় চিঠি লেখার একাধিক শট ছিল। ক্যালিগ্রাফিস্টের কাছ থেকে সেই চিঠি লেখানোর সুযোগ থাকলেও তাতে একেবারেই আগ্রহ ছিল না সত্যজিৎবাবুর। বরং চেয়েছিলেন, নিজের হাতেই সেই চিঠি লিখবেন সৌমিত্রবাবু। সেইমতো সৌমিত্রবাবু সেই লেখার ধরণ রপ্ত করেছিলেন। নিজের হাতেই লিখেছিলেন সেই চিঠিগুলি।

আরও পড়ুন : রুপোলি পর্দার হাতছানিতেও মঞ্চকে ভোলেননি সৌমিত্র, ওটাই ওঁর প্রথম প্রেম

সন্দীপবাবুর কথায়, 'অনেকেই জানেন না, সৌমিত্রকাকার হাতের লেখাটাও বাবা পাল্টে দিয়েছিলেন। চারুলতায় অনেকগুলি চিঠি লেখার শট ছিল। বাবা চেয়েছিলেন, সৌমিত্রকাকা নিজের হাতেই লিখুন। কিন্তু উনিশ শতকের হাতের লেখা অন্য রকম হবে। একটু ফ্লারিশ দিয়ে লিখতে হবে। বাবা চাননি কোনও ক্যালিগ্রাফিস্টের কাছে যেতে। সৌমিত্রকাকা শুনে পরম উৎসাহে ওই লেখাটা রপ্ত করেছিলেন।'

আরও পড়ুন : উত্তম না সৌমিত্র বাঙালির সেরা রোম্যান্টিক হিরো কে? কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরাই থাক

তবে শুধু 'চারুলতা' নয়, সত্যজিৎবাবুর সব ছবিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতেন বলে জানিয়েছেন সন্দীপবাবু। 'অশনি সংকেত'-এর চিত্রায়ণের সময় একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, একদিন কোনও শুটিং ছিল না সৌমিত্রবাবুর। তা সত্ত্বেও সিনেমায় মগ্ন ছিলেন তিনি। এমনকী কোনও একটি দৃশ্যের সময় টেকনিশিয়ান আশপাশে ছিলেন না। তাই সৌমিত্রবাবু নিজেই ট্রলি ঠেলতে শুরু করেছিলেন। সেজন্য সত্যজিৎবাবু অত্যন্ত রেগে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সন্দীপবাবু। তাছাড়াও অভিনয়ের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েও রীতিমতো চর্চা করতেন। সন্দীপবাবু জানান, স্ক্রিপ্টের পাশে লিখে রাখতেন যাবতীয় খুঁটিনাটি - কীভাবে তাকাবেন, কোথায় একটু থামবেন, কোথায় জোর দেবেন।

বন্ধ করুন