বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > PCOS: পিসিওস-এর সমস্যায় ভুগছেন? কমতে পারে সহজ কিছু উপায়ে

PCOS: পিসিওস-এর সমস্যায় ভুগছেন? কমতে পারে সহজ কিছু উপায়ে

কীভাবে কমতে পারে PCOS-এর সমস্যা?

PCOS: পিসিওস-এ হরমোনের ভারসাম্যে হেরফের দেখা দেয়। তৈরি হয় প্রজননগত নানা জটিলতা। বিশেষজ্ঞের মতে, জীবনযাপনে বদল আনলেই মিলতে পারে সমস্যার সমাধান।

পিসিওস বর্তমান সময়ে মেয়েদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সমস্যা। এর সম্পূর্ণ নাম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম। এই সমস্যার ফলে মেয়েদের সন্তানধারণে নানারকম জটিলতা তৈরি হয়। পলিসিস্টিকের সিনড্রোমের অর্থ হল একাধিক সিস্টজনিত সমস্যা। সাধারণত, হরমোনের ভারসাম্যে হেরফের থেকে এই সমস্যার শুরু। পিসিওস-এর ক্ষেত্রে শরীরে স্ত্রী হরমোনের উৎপাদন কমে গিয়ে পুরুষ হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মাসিকচক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে। মাসিক চলাকালীন কখনও ফ্লো বেড়ে যায়, আবার কখনও দেরিতে মাসিক শুরু হয়, কখনও বা নির্দিষ্ট দিনসংখ্যা পেরিয়ে গেলেও মাসিক চলতে থাকে। পুরুষ হরমোন বেড়ে যাওয়ার ফলে মুখের ত্বকের রোম বৃদ্ধি পায়। মাথার চুল পাতলা হয়ে আসে। ওজন বেড়ে যায়। এমনকি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়।

পলিসিস্টিক সিনড্রোমের ফলে প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে নানারকম জটিলতা তৈরি হয়। স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান ধারণ অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। পিসিওস-এ গর্ভাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। গর্ভাশয়ের মধ্যে একাধিক সিস্ট উৎপন্ন হয়। এর ফলে গর্ভাশয় আকারে বড় হয়ে যেতে থাকে। সিস্ট জমতে থাকলে গর্ভাশয়ের ডিম্বাণু নিঃসরণের ক্ষমতা কমতে থাকে। এর থেকেই মাসিক সংক্রান্ত নানা সমস্যা শুরু হয়।

মেডো হেলথের প্রজনন ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ ডাঃ পুনিত রাণা অরোরা এইচটি লাইফস্টাইলকে জানালেন এই সমস্যার নানা প্রভাবের কথা। তাঁর কথায়, এটি কোনও রোগ নয়, বরং একটি ডিসঅর্ডার। নিয়মিত চিকিৎসা না করালে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এই সমস্যায় ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক, ওজন বেড়ে যাওয়া ও হিরসুটিজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়।একটু বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে, প্রজননে সমস্যা, গর্ভপাত, ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে।

সাধারণত তিনটি উপায়ে পিসিওস এড়িয়ে চলা যায়

১. ডায়েট: প্রতিদিন চটজলদি ও মশলাদার খাবার খাওয়া, ধূম ও মদ্যপানের কারণে পিসিওস-এর সমস্যা তৈরি হয়। পিসিওস থাকলে শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই পরিশ্রুত কার্ব ও বেশি মিষ্টি খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত।

২. নিয়মিত ব্যায়াম: পাঁচ থেকে দশ শতাংশ ওজন কমালে পিসিওস-এর সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই মিলতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম।

৩. চিকিৎসা: পিসিওস কমাতে ডাক্তাররা ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার করে থাকেন। এর পাশাপাশি এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলারা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মাধ্যমে সন্তান ধারণ করতে পারেন।

 

 

বন্ধ করুন