ফাইল ছবি (REUTERS)
ফাইল ছবি (REUTERS)

রাত ন'টায় সবাই আলো বন্ধ করলে মারাত্মক চাপ পড়বে বিদ্যুতের গ্রিডের ওপর, জরুরি বৈঠক মন্ত্রকের

মাত্র নয় মিনিটের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার মারাত্মক ওঠা-নামা হবে রবিবার।

রবিবার রাত নটায় সব আলো বন্ধ করে নয় মিনিটের জন্য বাড়ির বারান্দা বা দরজায় গিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ, প্রদীপ জ্বালিয়ে সেটা বিশ্বের কাছে বার্তা দিতে আহ্বান করেছেন মোদী। কিন্তু আচমকা বিদ্যুতের চাহিদা অতটা কমে গেলে গ্রিড সেটা সহ্য করতে পারবে কি না, সেই নিয়েই এখন চিন্তিত কেন্দ্রীয় বিদ্যুত মন্ত্রক।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে বিদ্যুত মন্ত্রক। বিদ্যুতমন্ত্রী আরকে সিং ও Power Grid Corporation of India Limited (PGCIL) এবং গ্রিড অপারেটর POSOCO National Load Despatch Centre এর বরিষ্ঠ কর্তারা এই বৈঠকে সামিল ছিলেন। লকডাউনের জেরে কলকারাখানা বন্ধ। ফলে এমনিতেই চাহিদা তলানিতে। এর ওপর যদি সবাই আলো বন্ধ করে দেন তাহলে গ্রিডের ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে, এই নিয়েই উদ্বেগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বরিষ্ঠ অফিসার জানিয়েছেন যে মিটিংয়ে PGCIL ও লোড ডিসপ্যাচাররা বলেছেন যে তারা ওদিন বিদ্যুতের গ্রিড যাতে স্টেবল থাকে, সেটা নিশ্চিত করবেন। বাণিজ্যিক কাজ কর্মের অভাবে এই মুহূর্তে চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ কম। এর ওপরে অত দ্রুত চাহিদার চড়াই-উতরাই নিয়ে চিন্তা।

Bridge to India Energy Private Limited-এর ম্যানিজিং ডিরেক্টর বিনয় রুস্তাগি বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন। নটার সময় সবাই যদি আলো নিভিয়ে দেয় ও তারপর নটা দশ নাগাদ আবার চালু করে তাহলে অল্প সময়ের মধ্য ১০-১৫ GW লোড কমে গিয়ে আবার ফিরে আসবে। এরকম আগে কখনো হয়েছে বলে জানেন না বিনয় রুস্তাগি। প্রয়োজনে হাইড্রো ও গ্যাস পাওয়ারের ব্যাকআপ রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

কিন্তু বিদ্যুত মন্ত্রকের কর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে তারা পরিস্থিতি সামলে দেবেন। এক কর্তা বলেছেন যে মোট ১৫ GW ওঠা-নামা করবে বিদ্যুত। সেটার ওপর নজর রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দক্ষিণী রাজ্যে সার্কুলার জারি হয়েছে যে গ্রিডকে সামলানোর জন্য রবিরাত রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে খেপে খেপে লোডশেডিং করার যাতে একেবারে চাপ না পড়ে। সর্বভারতীয় স্তরে সেরকম কিছু করা হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।


বন্ধ করুন