বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উঁচু জাতের খাবার ছোঁয়ার ‘অপরাধে’ দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ফেরার ২ অভিযুক্ত
খাবার স্পর্শ করার অভিযোগে দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হল মধ্য প্রদেশের গ্রামে।
খাবার স্পর্শ করার অভিযোগে দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হল মধ্য প্রদেশের গ্রামে।

উঁচু জাতের খাবার ছোঁয়ার ‘অপরাধে’ দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ফেরার ২ অভিযুক্ত

  • খাবার ছুঁয়ে ফেলার জন্য দেবরাজকে মারধর করে দুই অভিযুক্ত। বাড়ি ফেরার কয়েক মিনিট পরে বুকে যন্ত্রণা অনুভব করার কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

উঁচু জাতের জন্য রাখা খাবার স্পর্শ করার অভিযোগে বছর পঁচিশের দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হল মধ্য প্রদেশের গ্রামে। ফেরার দুই অভিযুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী ভোপাল থেকে ৩৪৪ কিমি উত্তর-পূর্বে বুন্দেলখণ্ডের ছাতারপুর জেলার কিষাণপুর গ্রামের এক অনুষ্ঠানে উচ্চ শ্রেণির জন্য রাখা খাদ্যদ্রব্য ছুঁয়ে ফেলার ‘অপরাধে’ সোমবার দলিত যুবক দেবরাজ অনুরাগীকে হত্যার অভিযোগে ওই গ্রামের দুই বাসিন্দা ওবিসি শ্রেণিভুক্ত সন্তোষ পাল ও ভুরা সোনির বিরুদ্ধে গৌরীহর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। 

ছাতার পুরের পুলিশ সুপার শচীন শর্মা জানিয়েছেন, ‘নিহতের পরিবারের দায়ের করা এফআইআর অনুসারে, গ্রামের এক মাঠে একটি অনুষ্ঠানে দেবরাজ অনুরাগীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল গ্রামেরই অন্য দুই বাসিন্দা সন্তোষ পাল ও ভুরা সোনি। দুই ঘণ্টা পরে বাড়ি ফিরে দেবরাজ জানান, খাবার ছুঁয়ে ফেলার জন্য তাঁকে মারধর করেছে দুই অভিযুক্ত। এর কয়েক মিনিট পরেই বুকে যন্ত্রণা অনুভব করেন ওই যুবক এবং মারা যান।’

নিহত দেবরাজের ভাই রামনরেশ জানিয়েছেন, ‘খেতে বসেছিল দাদা। ঠিক সেই সময় তাকে বাড়ি এসে ডেকে নিয়ে যায় সন্তোষ পাল। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ভুরা সোনি, তার ভাই রোহিত সোনি এবং গ্রামের আর এক বাসিন্দা। আমাদের কয়েক জন আত্মীয় দেখতে পায়, ওরা দাদাকে কাছের এক জঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানেই তাঁকে প্রচণ্ড মারধোর করা হয়। এর পর সন্তোষ আমায় ফোন করে দাদাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলে আর পুলিশকে বিষয়টি না জানাতে হুমকি দেয়। দাদাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পরে মাত্র ১৫ মিনিট বেঁচেছিল।’

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ‘নিহতের পিঠে গভীর ক্ষত ছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা এবং তফশিলি ও জাতির বিরুদ্ধে নির্যাতন দমন আইনের একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাদের খোঁজে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে সাহায্য করছে পুলিশের সাইবার সেল।’

বন্ধ করুন