বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‌বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, যতক্ষণ না সেটা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
সুপ্রিম কোর্ট। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

‌বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, যতক্ষণ না সেটা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও মন্তব্য দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃনার পরিবেশ সৃষ্টি করে, সমাজে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে, ততক্ষণ সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাখিল করা ঠিক নয়

 

কোনও নাগরিকের বাক স্বাধীনতাকে কখনই ফৌজদারি মামলা হিসাবে দেখানো যাবে না, যতক্ষণ না সেটা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করে। সম্প্রতি এই কথাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে শিলং টাইমসের এডিটর প্যাট্রিসিয়া মুখিমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়।এই মামলা থেকে নিষ্ক্রিতি পাওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের দারস্থ হন ওই সম্পাদক।মামলার শুনানিতে বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও ও বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও মন্তব্য দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণার পরিবেশ সৃষ্টি করে, সমাজে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে, ততক্ষণ সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাখিল করা ঠিক নয়।কারণ, কারো বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না। শীর্ষ আদালত ওই এডিটরের বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দেয়।

এর আগে গত বছর নভেম্বরে মেঘালয় হাই কোর্ট এই মামলায় কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি।মেঘালয় হাই কোর্ট মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।মামলাকারীর তরফে আইনজীবী বিন্দ্রা গ্রোভার জানান, বাক স্বাধীনতা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। সংবিধানের ১৯(‌১)‌ ও ২১ নম্বর ধারা প্রতিটি নাগরিককে এই অধিকার দিয়েছে।আইনজীবীর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানান, মামলাকারী এমন কোনও মন্তব্য করেননি যাতে সমাজের বিদ্বেষ তৈরি হতে পারে।

কী অভিযোগ ছিল শিলং টাইমসের এডিটরের বিরুদ্ধে ?‌তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে অ–আদিবাসীদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তার নিন্দা করেছিলেন এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন।এই পোস্টের পর তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩–এ, ৫০০ ও ৫০৫ ধারায় মামলা রুজু হয়, যা ফৌজদারি মামলার সামিল।

বন্ধ করুন