ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

হোয়াটসঅ্যাপ-এর বদলে ভারতে তৈরি GIMS মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম চালু কেন্দ্রের

  • আপাতত পরীক্ষামূলক স্তরে ভারতীয় নৌসেনার ব্যবহারের জন্য চালু করা হয়েছে GIMS। ওয়ান টু ওয়ান মেসেজিং-এ এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা থাকছে এই সিস্টেমে।

প্রশাসনিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি কাজের সুবিধায় হোয়াটসঅ্যাপের মতো নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম চালু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপাতত পরীক্ষামূলক স্তরে ভারতীয় নৌসেনার ব্যবহারের জন্য চালু করা হয়েছে এই গভর্নমেন্ট ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সিস্টেম বা GIMS। ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির নির্মাতা ন্যাশনাল ইনফর্মেটিক্স সেন্টারের (NIC) কেরালা শাখা। মূলত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্যবহারের জন্যই তা তৈরি করা হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতোই GIMS-এও ওয়ান টু ওয়ান মেসেজিং-এ এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা থাকছে। এর আগে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে ভারতীয় ইউজারদের মোবাইল ডিভাইসে আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠার পরে হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।

নির্মাতাদের দাবি, ভারতে প্রস্তুত হওয়ার কারণে GIMS তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। এই সিস্টেমে ব্যবহৃত সার্ভারটি ভারতেই অবস্থিত এবং এখানে সংগৃহীত তথ্য সরকারি NIC নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টারে সুরক্ষিত থাকবে।

প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে এই সিস্টেম নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করেন NIC কর্মীরা। এর পরে তা কিছু কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে চালু করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ওডিশার অর্থ মন্ত্রক এবং ভারতীয় নৌসেনা। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মটির প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে একটি GIMS পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দফতরগুলির জন্য তৈরি GIMS-এর iOS সংস্করণ পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথম চালু করা হয় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে। জানা গিয়েছে, iOS ভার্সান ১১ ও উন্নততর সংস্করণ একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ যা কিটক্যাট (Android 4.4.4) ও উন্নততর সংস্করণে ব্যবহারযোগ্য।

জানা গিয়েছে, পরীক্ষামূলক ভাবে GIMS-এর ব্যবহার করার অনুমোদনন দিয়েছিল ওডিশা অর্থমন্ত্রক। রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিজেদের মোবাইল ফোনে GIMS ইনস্টল করার নির্দেশও দেয় ওডিশা সরকার। মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি পরীক্ষার উদ্দেশে রাজ্য অর্থ দফতরের সমস্ত কর্মীকে নিয়ে একটি GIMS গ্রুপও তৈরি করেছে NIC।

এ পর্যন্ত বেশিরভাগ সরকারি দফতরেই কাজের জন্য ফেসবুক-এর মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের রীতি চালু রয়েছে। যদিও কর ও প্রকতিরক্ষা মন্ত্রকে টেলিগ্রাম ব্যবহারের চলই বেশি। তবে বর্তমানে তার জায়গা নিতে শুরু করেছে আমেরিকার ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ সিগনাল।

ওয়ান টু ওয়ান মেসেজিং ও গ্রুপ মেসেজিং ছাড়াও GIMS-এ বিভিন্ন নথি ও মাল্টি মিডিয়া ফাইল শেয়ার করার সুবিধা রয়েছে।

বন্ধ করুন