বাড়ি > ঘরে বাইরে > ফিঙ্গার ৪ থেকে চিনকে ফিঙ্গার ৮-এ সরানো চ্যালেঞ্জিং হবে, বললেন নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডার
ফিঙ্গার ৪ থেকে চিনকে ফিঙ্গার ৮-এ সরানো চ্যালেঞ্জিং হবে, মত নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডারের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এপি)
ফিঙ্গার ৪ থেকে চিনকে ফিঙ্গার ৮-এ সরানো চ্যালেঞ্জিং হবে, মত নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডারের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এপি)

ফিঙ্গার ৪ থেকে চিনকে ফিঙ্গার ৮-এ সরানো চ্যালেঞ্জিং হবে, বললেন নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডার

  • ভারতীয় এবং চিনা সেনার কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর সেনা সরানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা ফিঙ্গার এরিয়ায় হয়নি।

রাহুল সিং

সব সংঘাতের এলাকা থেকে ‘সেনা সরানোর বিষয়ে পারস্পরিক ঐক্যমত’-এ পৌঁছেছে ভারতীয় এবং চিন সেনা। কিন্তু উত্তেজনা প্রশমনের সেই চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে লাদাখের প্যাংগং সো লেকের উত্তর তীরের ফিঙ্গার এরিয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার উপর। এমনটাই মনে করছেন আধিকারিক এবং চিনা বিশেষজ্ঞরা।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক আধিকারিক জানান, ফিঙ্গার ফোর থেকে ফিঙ্গার এইট পর্যন্ত বাঙ্কার, পিলবক্স, নজরদারি পোস্ট তৈরি করেছে চিনা সেনা। সেই কাঠামো তুলে চিনা সেনাকে ফিঙ্গার এইটে ফেরত পাঠানো সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার সবথেকে কঠিন কাজ বলে মনে করেন ওই আধিকারিক। প্রকৃতপক্ষে ফিঙ্গার এইটে অবস্থান করে চিনা সেনা। প্যাংগং লেকের কাছে সিরিজার রেঞ্জের আটটি শৃঙ্গকে ফিঙ্গার এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অপর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত মাসের গোড়ার দিকে ফিঙ্গার ফোরের সুবিধাজনক অবস্থানে জুড়ে বসেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। অথচ ফিঙ্গার এইট পর্যন্ত এলাকা ভারতের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। অর্থাৎ ফিঙ্গার এইটের পর্যন্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বিস্তৃত রয়েছে।। যদিও চিনের দাবি, ফিঙ্গার ফোর দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা গিয়েছে। এলাকাগুলিতে চিনা সেনার অবস্থানের কারণে ভারতীয় জওয়ানদের টহলদারিতে সমস্যা হচ্ছে। ফিঙ্গার ফোর এবং ফিঙ্গার এইটের মধ্যে দূরত্ব আট কিলোমিটার। আর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, গত ৫-৬ মে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই সেই এলাকাগুলিতে চিনা সেনার অবস্থান রয়েছে।

নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস হুডা (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘পিএলএ-কে ফিঙ্গার ফোর থেকে ঠেলে ফিঙ্গার এইটে সরিয়ে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। সামরিক অবস্থান, নয়া অবস্থান এবং পরিকাঠামো থেকেই ওদের উদ্দেশ্য বোঝা যাচ্ছে।’

গত সাত সপ্তাহ ধরে ফিঙ্গার ফোর এবং ফিঙ্গার এইটের মধ্যে চিনা গতিবিধি এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উপস্থিতির বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ভারতীয় সেনা। নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডারের আশঙ্কা, শুধু ফিঙ্গার এরিয়া নয়, পূর্ব লাদাখের একাধিক জায়গায় একই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে চিনা সেনা। তাঁর কথায়, 'এটা শুধু ফিঙ্গার এরিয়ার বিষয় নয়। আপনি দেখতে পারেন যে ডেসপ্যাং, চুমার, ডেমচক এবং ইস্টার্ন সেক্টরের এলাকাগুলিতে নিজেদের ধারণার ভিত্তিতে একই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে চিন।'

ফিঙ্গার এরিয়া নিয়ে দু'দেশের কী পর্যায়ে টানাপোড়েন চলছে, তা গত সপ্তাহে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমনকী ভারতীয় এবং চিনা সেনার কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর সেনা সরানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা ফিঙ্গার এরিয়ায় হয়নি। মিলিটারি অপারেশনসের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিনোদ ভাটিয়া বলেন, 'ফিঙ্গার এলাকায় নিজেদের ঘাঁটি গেড়ে বসেছে পিএলএ। সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।'

বন্ধ করুন