বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সিবিআই হেফাজত থেকে উধাও ১০০ কেজির বেশি সোনা, সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
সিবিআই হেফাজতে থাকা ১০.৩.৮ কেজি সোনার হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না।
সিবিআই হেফাজতে থাকা ১০.৩.৮ কেজি সোনার হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না।

সিবিআই হেফাজত থেকে উধাও ১০০ কেজির বেশি সোনা, সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

  • গত ১১ ডিসেম্বর ঘটনায় বিশেষ তদন্তের জন্য সিবি-সিআইডি-কে নির্দেশ দেন মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতি পি এন প্রকাশ।

বাঘের ঘরেই ঘোগের বাসা! সিবিআই-এর হেফাজত থেকে চুরি গেল ১০০ কেজির বেশি সোনা। ঘটনায় মাদ্রাজ হাই কোর্টের নির্দেশে অভিযোগ দায়ের করেছে সিবি-সিআইডি সংস্থার চেন্নাই শাখা।

গত ২৩ ডিসেম্বর দেউলিয়া ও অনাদায়ী ঋণ পরিশোধের উদ্দেশে সম্পত্তি নিলাম সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ সি রামসুব্রহ্মণিয়ম ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮০ (চুরি) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিবি-সিআইডি সূত্র।

২০১২ সালে চেন্নাইয়ের সুরানা কর্পোরেশন লিমিটেড সংস্থার দফতরে হানা দিয়ে মোট উদ্ধার ৪০০.৪৭ কেজি ওজনের সোনার বিস্কুট ও গহনা উদ্ধার করে সিবিআই। সুরানা কর্পোরেশনেরই সিন্দুক ও ভল্টে বাজেয়াপ্ত সোনা রক্ষিত হয় সিবিআই-এর তালা ও সিলমোহর-সহ। 

সিবিআই-এর দাবি, মাদ্রাজ হাই কোর্টের নির্দেশে সরকারি নিলামদার, সুরানা কর্পোরেশন ও ব্যাঙ্ক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গত ২৭ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিন্দুক খুলে দেখা যায়, মাত্র ২৯৬.৬ কেজি সোনা মজুত রয়েছে।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে সোনা চুরি যাওয়ার খবর প্রকাশ পায় হাই কোর্টে সুরানা কর্পোরেশনের নিলামদার রামসুব্রহ্মণিয়মের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে। আবেদনে সিবিআই-এর কাছে অবশিষ্ট ১০৩.৮ কেজি সোনা (বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা) ফেরত দিতে আর্জি জানানো হয়।

শুনানিতে আদালতকে সিবিআই জানায়, সিন্দুক ও ভল্টের ৭২টি চাবি সংস্থার দায়ের করা মামলার শুনানির সুবিধায় চেন্নাইয়ে মুখ্য বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া হয়। 

গত ১১ ডিসেম্বর ঘটনায় বিশেষ তদন্তের জন্য সিবি-সিআইডি-কে নির্দেশ দেন মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতি পি এন প্রকাশ। নির্দেশে বিচারপতি প্রকাশ জানান, ‘ওঁরা সব চাবি হস্তান্তর করেছিলেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে আদালতের।’

পরের দিন তাদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে বিবৃতি প্রকাশকরে সিবিআই জানায়, ‘উদ্ধার করা উল্লিখিত সোনা সিবিআই-এর মালখানায় জমা পড়েনি। পরিবর্তে তা সিলমোহর দিয়ে রাখা হয় সুরানা সংস্থার দফতরেই। তদন্ত চলাকালীনই হাই কোর্টে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখনও সিবিআই-এর অন্ততর্বর্তী অনুসন্ধান পর্ব সম্পূর্ণ হয়নি। তদন্তে যদি কোনও সিবিআই আধিকারিকের আপত্তিজনক ভূমিকা ধরা পড়ে, সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংস্থার আরও দাবি, ওজন করার সময় সোনার বিস্কুটগুলি একত্রে রাখা হলেও নিলামদারের কাছে হস্তান্তরের সময় সেগুলি একক হিসেবে ওজন করার কারণেই পরিমাণে গরমিল দেখা দিয়েছে।

তদন্তে সিবিআই জানায়, উদ্ধার করা সোনার সঙ্গে কোনও দুর্নীতি মামলার সম্পর্ক নেই, তবে তা বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি লঙ্ঘনকরে তা অবৈধ ভাবে আমদানি করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবৈধ সোনা আমদানির জন্য মিনারেলস অ্যান্ড মেটালস ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (MMTC) সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সুরানা-র প্রতি অনৈতিক পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছে সিবিআই।

বন্ধ করুন