বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > মোদীর কনভয় কাণ্ডের জের পঞ্জাবের DGP পদ থেকে সরানো হল সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়কে
আইপিএস সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায় (HT_PRINT)
আইপিএস সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায় (HT_PRINT)

মোদীর কনভয় কাণ্ডের জের পঞ্জাবের DGP পদ থেকে সরানো হল সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়কে

  • গত বছরের ডিসেম্বরেই নভজ্যোত সিং সিধুর ইচ্ছায় পঞ্জাবের ডিজিপি হয়েছিলেন সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়।

ফিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় আটকে পড়ার ঘটনায় কেন্দ্রের তরফে আঙুল তোলা হয়েছিল পঞ্জাবের ডিজিপি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার ভোটের নির্ঘণ্ট বাজতেই বদলি করা হল তাঁকে। পঞ্জাবের নতুন পুলিশ প্রধান পদে আনা হয়েছে ভিকে ভাওরাকে। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেই নভজ্যোত সিং সিধুর ইচ্ছায় পঞ্জাবের ডিজিপি হয়েছিলেন সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তলব করেছে।

বুধবারই পঞ্জাবের ফিরোজপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়ে মাঝ রাস্তায় আটকে পড়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার পর শেষে সভাস্থলে না গিয়ে বিমানবন্দরে ফিরে যায় মোদীর কনভয়। বিমানে ওঠার আগে পঞ্জাবের আধিকারিকদের কাছে মোদী নিজের অসন্তোষের কথা বুঝিয়ে দেন। আর এই পুরো ঘটনায় অন্যতম ‘দোষী’ সাব্যস্ত করা হয় পঞ্জাবের ডিজিপি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, সড়কপথে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন ডিজিপি স্বয়ং। তারপরে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এহেন গাফিলতি দেখা দেয়, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কনভয় কাণ্ডে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, কেউই কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। তা সত্ত্বেও সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরানো হল তাঁর পদ থেকে। যদিও পঞ্জাব সরকার এখানে সুকৌশলী ভাবে জানিয়েছে, ইউপিএসসির তরফে পঞ্জাবের ডিজিপি পদের জন্য যেই তিন নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, তাতে সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল না। ইউপিএসসি সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ করেছে পঞ্জাব সরকার। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক চালও দেখছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের একাংশের মত, প্রধানমন্ত্রীর কনভয় কাণ্ডকে যাতে বিজেপি নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করতে না পারে, তাই আগেভাগেই সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে নয়া ডিজিপি নিয়োর করল পঞ্জাব সরকার। 

এদিকে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আটকে পড়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা যায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৩ নম্বর ধারায় এফআইআরটি করা হয়েছে। এটি জামিনযোগ্য অপরাধের ধারা। এর অধীনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও পুলিশের রেকর্ডে সড়ক অবরোধকারী ব্যক্তি ও সংস্থার কোনও উল্লেখই নেই। এদিকে কুলগড়ির স্টেশন হাউজ অফিশারের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, বুধবার বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুপুর আড়াইটায়। এর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর কনভয়কে ফিরে যেতে হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর কনভয় আটকানো বিক্ষোভকারীদের হটাতে এত দেরিতে কেন গেল পুলিশ?

বন্ধ করুন