বাড়ি > ঘরে বাইরে > সুস্থ হয়ে ফেরা ২ রোগীর রিপোর্টে ফের করোনা সংক্রমণের প্রমাণ, উদ্বিগ্ন প্রশাসন
নয়ডায় এক আবাসনের বাইরে কীটনাশক ছড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। সোমবার, পিটিআই-এর ছবি। (PTI)
নয়ডায় এক আবাসনের বাইরে কীটনাশক ছড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। সোমবার, পিটিআই-এর ছবি। (PTI)

সুস্থ হয়ে ফেরা ২ রোগীর রিপোর্টে ফের করোনা সংক্রমণের প্রমাণ, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

পরীক্ষাগারের রিপোর্টের বৈধতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তেমনই হাসপাতালের ডিসচার্জ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া Covid-19 রোগীদের নমুনা পরীক্ষার ফল ফের করোনা পজিটিভ হওয়ায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। সমস্যার উৎস সন্ধানে একদিকে যেমন পরীক্ষাগারের রিপোর্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তেমনই হাসপাতালের ডিসচার্জ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সম্প্রতি গ্রেটার নয়ডার গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস থেকে ছাড়া পাওয়া দুই রোগীকে ফের ডেকে পাঠিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (NCDC) থেকে পাওয়া রিপোর্টে দুই রোগীই করোনামুক্ত জানার পরে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারের রিপোর্টে তাঁদের নমুনায় ফের করোনাভাইরাসের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের ধারণা, আলিগড়ের রিপোর্টে কোনও প্রযুক্তিগত তথ্য বিকৃতি ঘটতে পারে, যার জেরে সুস্থ রোগীদের নমুনায় ফের সংক্রমণের হদিশ মিলেছে।

শুধু ভারতেই নয়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯১ জন Covid-19 রোগী সুস্থ হওয়ার পের হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ফের তাঁদের নমুনায় সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া যাওয়ায় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, Covid-19 রোগীর দেহে সংক্রমণের পুনরাবির্ভাব সম্পর্কে এখনও যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রেও তাঁরা পরীক্ষা পদ্ধতির খুঁতের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আমেরিকার মিনেসোটার মেয়ো ক্লিনিকের সংক্রামিত রোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয়া সম্পতকুমারের মতে, করোনা পজিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে RT-PCR টেস্টিং পদ্ধতি কার্যকর হলেও জীবাণুমুক্ত মানুষের এই পরীক্ষা ফলদায়ী হয় না। তাঁর কথায়, ‘করোনা পজিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী হলেও Covid-19 জীবাণুমুক্তি প্রমাণের ক্ষেত্রে তার সাফল্যের হার কম। পরীক্ষায় নেগেটিভ প্রমাণিত হলেই রোগীর দেহে জীবাণুর কোনও অস্তিত্ব নেই, এমন বলা যায় না। রোগীর আচরণ ও মেলামেশার ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফল বিচার করা উচিত।’

গত এক সপ্তাহ যাবৎ Covid-19 সন্দেভাজনদের নমুনার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। সমাধান খুঁজতে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি গড়ার জন্য গ্রেটার নয়ডার গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-কে ৪৬.২২ লাখ টাকা এবং সেক্টর ৩৯-এর সুপার স্পেশ্যালিটি শিশু হাসপাতালের জন্য ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছেন জেলাশাসক।

স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরে রোগীর দেহে যাতে ফের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটে, সেদিকে নজর রাখে কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়ি ফেরার পরে রোগীদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতেও বলা হচ্ছে।

বন্ধ করুন