বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সামরিক শাসক জিয়াউরের পথেই হেঁটেছে খালেদা জিয়া: শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
শেখ হাসিনা। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

সামরিক শাসক জিয়াউরের পথেই হেঁটেছে খালেদা জিয়া: শেখ হাসিনা

  • জাতির পিতা হত্যার পর ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যকে কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায না৷’

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান যা করেছিলেন খালেদা জিয়াও পরে ‘একই পথে’ হেঁটেছেন, এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনার এক ভিডিয়ো কনফারেন্সে৷

রবিবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে জিয়ার উত্থানপর্বের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ ৭ নভেম্বর৷ ৭৫ সালে এই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে ক্যু হয়েছে৷ ৭৫ সালের পর বাংলাদেশে ১৯ বার ক্যু হয়েছে৷ একেকটা ক্যু যখন হয়েছে, সেনাবাহিনীর হাজার-হাজার সৈনিক, অফিসারদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে৷’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল ৭৫-তে যখন মোশতাক ক্ষমতা দখল করেছিলেন, জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় তিন মাসও যেতে পারেননি, মোশতাককে বের করে দিয়ে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়৷ আর সেই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দেশে ১৮ বার ক্যু হয়৷’ ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান ৷ মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীতে একটি অভ্যুত্থানে গৃহবন্দি হন জিয়া৷

৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া৷ এর মধ্যে দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, পরে দেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও নেন৷

জিয়া ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলি বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড-সহ নানা সাজা দেওয়া হয়৷ ১৯৭৬ সালে এই রকম এক বিচারের পর কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ ওই বিচারকে পরে ‘অবৈধ' বলে রায় দেয় উচ্চ আদালত৷ ভিডিয়ো কনফারেন্সে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘প্রত্যেকবার ক্যুর সময় জিয়াউর রহমানের হাতে হাজার-হাজার সামরিক বাহিনীর সৈনিক, অফিসার, বিমান বাহিনীর অফিসার এবং অনেক মানুষ মারা যায়৷ কোর্ট মার্শাল দেওয়া হয়, সামারি ট্রায়াল দেওয়া হয় ৷ এইভাবে মানুষকে হত্যা করে৷ আজ ৭ নভেম্বর। প্রকৃতপক্ষে এটা সৈনিক হত্যা দিবস৷ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যা দিবস৷'

সেই সময়ে যাঁদের হত্যা করা হয়েছিল, তাঁদের পরিবারের অনেকে এখনেও তাদের আপনজনকে খুঁজে পায়নি, লাশ না পাওয়ায় কাফন-দাফনও হয়নি৷ কীভাবে তাদের প্রিয়জনের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে সেকথাও অনেকেই জানেন না, বলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ জাতির পিতাকে হত্যার পর তার খুনিদের পথ রুদ্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির কথা মনে করিয়ে দেন এবং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে দেশের পরিস্থিতি কেমন ছিল সে কথাও বলেন৷

‘বিদ্যুত্ দাবি করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে ১৯জন মানুষকে হত্যা করেছিল খালেদা জিয়া৷ সারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল বলে ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিল৷ হত্যা করাটাই তাদের কাজ ৷ জিয়াউর রহমান যেমন শত শত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক অফিসারকে হত্যা করেছে, জওয়ানদের হত্যা করেছে, সৈনিকদের হত্যা করেছে, তার স্ত্রীও একই পথ অবলম্বন করেছে৷’

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার এবং গ্রেনেড মামলায় তাঁর ছেলে তারেক রহমানের দাণ্ডিত হওয়ার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলেদের দুর্নীতি আমেরিকার এফবিআই খুঁজে বের করেছে এবং সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে৷ বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া কিছু টাকা সরকার ফেরত আনতেও সক্ষম হয়েছে৷’ যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা তারেক রহমানের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই এখন দেখতে পারেন, প্রবাসে থেকেও কীভাবে তারা চলে৷ তাঁদের সোর্স অব ইনকাম কী? জনগণের সম্পদ লুঠ করে তাঁরা বিলাসিতা করেন৷’ জাতির পিতা হত্যার পর ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যকে কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায না৷’

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন