বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কোথাও ২.৫ গুণ, কোথাও ৫০% বেশি- কী কারণে বাসে এরকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে?
নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বাস মালিকেরা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মোর্তাজা রশিদ/ডয়চে ভেলে)
নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বাস মালিকেরা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মোর্তাজা রশিদ/ডয়চে ভেলে)

কোথাও ২.৫ গুণ, কোথাও ৫০% বেশি- কী কারণে বাসে এরকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে?

  • নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বাস মালিকেরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত নামিয়েও কাজ হচ্ছে না।

নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বাস মালিকেরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত নামিয়েও কাজ হচ্ছে না। আর এজন্য মালিকরা দুষছেন পরিবহণ শ্রমিকদের আর শ্রমিকরা দুষছেন মালিকদের। মাঝখান থেকে পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীদের।

বাস ভাড়ার নৈরাজ্য চালিয়ে যেতে ঢাকায় বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। গত দু'দিন ধরে ঢাকায় গণপরিবহণের সংখ্যা অনেক কম। যাত্রীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। তাঁরা উপায় না দেখে অতিরিক্ত ভাড়াই দিচ্ছেন।

ঢাকায় কাগজে কলমে সিটিং সার্ভিস আর ওয়ে বিল সিস্টেম তুলে দেওয়ার পর বাস্তবে বিআরটিএর চার্ট অনুযায়ী, ভাড়া আগের চেয়ে কমে যাওয়ার কথা । কিন্তু কমা তো দূরের কথা, ভাড়া বরং অনেক বেড়েছে। যাত্রীদের উপর ভিত্তি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিছু বাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর পর এখন বিআরটিয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি করা হচ্ছে।

জবরদস্তি এই বাড়তি ভাড়ার পিছনে আছে ঢাকার বাস ও মিনিবাস মালিকদের সঙ্গে চালকদের চুক্তি। চালক বা খালাসিদের বেতন না দিয়ে দৈনিক চুক্তিতে বাস দেওয়া হয়। আর চালকরা মালিককে নির্ধারিত হারে টাকা দিয়ে গাড়ি নিচ্ছেন। চালক নিজের-সহ খালাসি, কন্ডাক্টর ও অন্য কর্মচারীদের মজুরি ও জ্বালানি খরচ বাদে বাকি টাকা থেকে ভাগ করে নিচ্ছেন। সমিতিসহ অন্যান্য চাঁদাও চালককেই দিতে হয়। মালিকেরা এরই মধ্যে দিন চুক্তির টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর চালকেরাও চাইছেন বেশি আয় করতে। ফলে ভাড়ার চার্টের ধার ধারছেন না কেউ।

সরেজমিন দেখা গিয়েছে, বাড্ডা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আট কিলোমিটারে নতুন ভাড়া প্রতি কিলো দুই টাকা ২৫ পয়সা হিসেবে ভাড়া আসে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট ভাড়া আসে সাত টাকা ৯৫ পয়সা। নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। শ্যামলী থেকে কমলাপুর ভাড়া আসে ২০ টাকা ২৫ পয়সা। নেওয়া হচ্ছে ৪৫ টাকা। এভাবে ঢাকার ভিতরে প্রতিটি রুটেই ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

কথা হয় বাস যাত্রী মো. জোনায়েদ হোসেন এবং মো. নিজামউদ্দিনের সঙ্গে। জোনায়েদ হোসেন প্রতিদিন গুলিস্তান থেকে বাংলা মোটর এবং বাংলা মোটর থেকে সরঘাট যাতায়াত করেন। তিনি জানান, নতুন হিসেবে গুলিস্তান থেকে বাংলা মোটরের ভাড়া হয় সর্বোচ্চ আট টাকা। কিন্তু এখন নিচ্ছে ১৫ টাকা। আবার বাংলা মোটর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নতুন হিসেবে ভাড়া আসে ১০ টাকা। কিন্তু নিচ্ছে ২৫ টাকা। নতুন ভাড়ার চেয়েও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার একই ধরনের অভিযোগ করেন নিজামউদ্দিন। তারা দুইজনই অভিযোগ করেন, প্রতিবাদে কোনো কাজ হয় না। আর সবাই মিলে অভিযোগ না করলে তারা পাত্তাই দেয় না।

চালক হৃদয় চৌধুরী জীবন ও মিজানুর রহমান দাবি করেন, ‘মালিকেরা ভাড়া বেশি নিতে বলছে তাই নিচ্ছি। আর দিনের মোট আয়ের উপর আমাদের বেতন নির্ভর করে । নির্ধারিত কোনও বেতন নাই। যা আয় হবে, তা দিয়ে মালিকের টাকা পরিশোধ করে তারপরে দিনের বেতন৷’ সব খরচ বহন করে এখন মালিকদের বাস ভেদে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। আগে ছিল এর অর্ধেক।

‘বাহন পরিবহনের’ মালিক আবদুল করিম এই দিন চুক্তিতে চালকদের বাস চালাতে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত কোনও বেতন নেই পরিবহন শ্রমিকদের । তারা দু'ভাবে মজুরি পান। একটি হল, দিনে যতো আয় হবে, তার উপর নির্ভর করে বেতন দেওয়া। আরও একটি হল, চালকদের দিন চুক্তিতে গাড়ি দেওয়া হয়। দিন চুক্তিতে সব খরচ চালকের। মালিককে দিয়ে যা থাকবে তা চালক এবং ষ্টাফরা ভাগ করে নেবেন। আর দিনের আয়ের হিসেবে সব খরচ বাদ দিয়ে লাভের একটি অংশ চালক শ্রমিকদের দেওয়া হয়।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সারাদিনে ক্যাশ যদি ৬,০০০ টাকা হয়, তাহলে চালক ও শ্রমিকরা পাবে এক হজার ১০০ টাকা। পাঁচ হাজার হলে ৯০০ টাকা। চার হাজার হলে ৭০০ টাকা।’ অবশ্য তিনি দাবি করেন, ‘মালিকরা এখন চার্টের বাইরে ভাড়া নিতে বলছেন না। বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। মালিকদের আয় এখন অনেক কমে গিয়েছে।'

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক লিগের সভাপতি হানিফ খোকন বলেন, ‘সরকার পরিবহণ শ্রমিকদের বেতন ১৩টি স্কেলে নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু কেউই বেতনে চালক বা খালাসি নিয়োগ করে না। ওই নিয়মে একজন চালকের মাসিক সর্বোচ্চ বেতন ২০ হাজার ২০০ টাকা। প্রতিদিন ডিউটি আট ঘণ্টা। মাসে চার দিন ছুটি। এটা কার্যকর হলে শ্রমিকেরা ভালো থাকত। যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে তাদের ঝামেলা হত না।'

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন