বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিয়োয় ব্যর্থতার পর কুস্তি ছেড়েই দিয়েছিলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী উৎসাহ দেন- ভিনেশ
ভিনেশ ফোগাট।

টোকিয়োয় ব্যর্থতার পর কুস্তি ছেড়েই দিয়েছিলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী উৎসাহ দেন- ভিনেশ

টোকিয়োয় ব্যর্থতার পর ভিনেশের আত্মবিশ্বাস যখন একেবারে দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে, সেই সময়ে একদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। মোদী তাঁকে উৎসাহ দেন। তার পরে ভিনেশ ফোগাট আবার ঘুরে দাঁড়ান। যার ফল বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে পেয়েছেন তিনি।

টোকিয়ো অলিম্পিক্সে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাটা ছিল আকাশছোঁয়া। তিনি টোকিয়ো থেকে ভারতকে পদক এনে দেবেন, এমনটা ধরেই নিয়েছিল গোটা দেশ। কিন্তু গোটা দেশকে নিরাশ করেছিলেন ভিনেশ ফোগাট। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে। এ দিকে ২০১৬ সালেও হাঁটুর চোটের কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। বারবার অলিম্পিক্সে ব্যর্থ হওয়ার জেরে কুস্তিই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন ভিনেশ। কিন্তু সেই সময়ে পরিবার এবং কাছে র মানুষদের পাশাপাশি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, হার না মানার জন্য।

আরও পড়ুন: CWG 2022 India Medal Tally: চার নম্বরে শেষ করল ভারত, দেখুন পুরো তালিকা

সকলের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় আবার ঘুরে দাঁড়ান ভিনেশ। বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে দাপটের সঙ্গে লড়ে সোনা জেতেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ভিনেশ ফোগাট। সেই অনুষ্ঠানের পর এক সাক্ষাৎকারেই কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কুস্তিগির বলেছিলেন, ‘বার্মিংহ্যামে পদক জয়ের পর আমাকে ভিনেশ-২ বলা যেতে পারে। একটা বড় মানসিক বাধা কাটিয়ে এই জায়গায় পৌঁছেছি। পর পর দু’টো অলিম্পিক্সে ব্যর্থতার পর কুস্তি ছেড়ে দেওয়ার কথাই ভেবেছিলাম। অলিম্পিক্স যে কোনও ক্রীড়াবিদের কাছে সবথেকে বড় মঞ্চ। পর পর দু’বার অংশ নিয়েও একটাও পদক জিততে পারিনি। হতাশার সময় পরিবারের সকলে আমার পাশে ছিল। সবাই বার বার বুঝিয়েছিল, আমার যোগ্যতা রয়েছে।’

আরও পড়ুন: দেখতে সাদাসিধে, তবে রথী মহারথীও ওকে ভয় পায়, মহিলা ক্রিকেটারকে নিয়ে মোদীর মস্করা

যখন ভিনেশের আত্মবিশ্বাস একেবারে দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে, সেই সময়ে একদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। মোদীও তাঁকে উৎসাহ দেন। তার পরে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ান। কমনওয়েলথ গেমসে সাফল্যের জন্য পরিবারের সদস্য এবং অনুরাগীদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভিনেশ। তিনি বলেছেন, ‘ছোট থেকেই খেলাধুলো আমার প্রিয়। সব সময় মনের আনন্দে খেলেছি। কখনও কেউই আমাকে চাপ দেয়নি। জিতলে ভালই লাগে। সব সময় জেতার জন্যই খেলি। খেলোয়াড় জীবনে সব সময় পরিবারকে পাশে পেয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এমন অনেক মানুষ এই সময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, যাঁদের আমি চিনিও না। হয়তো জীবনে প্রথম বার বা এক বারই দেখেছি। এই উৎসাহগুলোই আমাকে ফিরে আসতে সাহায্য করেছে। ওঁদের জন্যই নিজেকে কুস্তিগির হিসাবে আরও উন্নত করতে পেরেছি।’

ভিনেশ অবশ্য মনে করেন, কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। তিনি বলেছেন, ‘সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, অনুশীলনে আপনি যেটা করছেন প্রতিযোগিতাতেও সেটা করা। টোকিয়োয় সেটাই করতে পারিনি। এখনও সেই আক্ষেপ রয়েছে আমার। গত এক বছর প্রচুর পরিশ্রম করেছি। নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি। কঠিন সময়ে অনেকে উৎসাহ দিয়েছেন। যদিও মনের মধ্যে একটা হতাশা ছিলই।’