খাদ্য সামগ্রী ও স্যানিটারি প্যাড নিয়ে নিজের গ্রামে হাজির দ্যুতি চাঁদ। ছবি- টুইটার।
খাদ্য সামগ্রী ও স্যানিটারি প্যাড নিয়ে নিজের গ্রামে হাজির দ্যুতি চাঁদ। ছবি- টুইটার।

দরকার থাকলেও গ্রামের মহিলারা এটার কথা মুখেও আনবেন না, লকডাউনে খাদ্য ও স্যানিটারি প্যাড বিতরণ দ্যুতির

  • তারকা স্প্রিন্টার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ করেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউনের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন, এটা সকলেই বোঝেন। সরকার ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে পীড়িত মানুষের দিকে। তবে প্রয়োজনের নিরিখে সবার আগে খাদ্য সামগ্রীর কথাই মাথায় আসে সবার। আরও কিছু যে প্রয়োজন হতে পারে, সেটা কজনই বা ভেবে দেখেছেন।

ভারতের তারকা স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ স্পষ্ট জানালেন, খাদ্য প্রয়োজন হলে মানুষ তা মুখ ফুটে বলতে পারে। তবে এমন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে, যা গ্রামের মানুষের পক্ষে মুখে আনাও সম্ভব নয়। দ্যুতি ভালোভাবেই চেনেন নিজের গ্রাম চাকা গোপালপুরের মহিলাদের। লকডাউনে তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় স্যানিটারি প্যাডের কথা তাঁরা কখনও উচ্চারণও করতে পারবেন না কারও সামনে।

ভুবনেশ্বর থেকে দীর্ঘ পথ গাড়ি চালিয়ে দ্যুতি চাঁদ পৌঁছন জাজপুর জেলায় নিজের গ্রামে। গাড়িতে ছিল খাদ্য সামগ্রী ও স্যানিটারি প্যাড। নিজের পকেট থেকে কিছু টাকা দিয়ে তিনি কিনেছেন এই সব সামগ্রী। আবার তাঁকে সহযোগিতা করেছে কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনলজি। গ্রামে গিয়ে যাঁদের স্নেহের ছায়ায় বেড়ে উঠেছেন, সমস্ত মহিলাদের হাতে খাদ্য সামগ্রী ছাড়াও তুলে দেন স্যানিটারি প্যাড। 

দ্যুতি বলেন, ‘লকডাউনের সময় মানুষের সবরকমের সাহায্যের প্রয়োজন। খাদ্যের কথা সবার মনে আসে। তবে এমন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে, যা দরকার থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ ফুটে বলতে পারে না। মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য স্যানিটারি প্যাড অত্যন্ত জরুরি। তবে এই মুহূর্তে গ্রামে এটা পাওয়া মুশকিল। আরও মুশকিল হচ্ছে, এই অভাবটার কথা কেউ মুখ ফুটে বলবেও না।’ 

দ্যুতি আরও বলেন, ‘গ্রামের মানুষের কাজ নেই। তাদের হাতে টাকা নেই। যাও বা টাকা রয়েছে, তাতে খাবার জোগাড় করাই মুশকিল। একটা স্যানিটারি প্যাডের প্যাকেটের দামই ৫০-৬০ টাকা। তাই এটা কেনার সামর্থ নেই তাদের। তাছাড়া লকডাউনে গ্রামের সব ওষুধের দোকান বেশিরভাগ সময় বন্ধ। বিষয়টা আমি বুঝি।’

দ্যুতি আরও জানান যে, গ্রামের মহিলারা বাইরে এসে তাঁর কাছ থেকে স্যানিটারি প্যাডের প্যাকেট নিতেও কুণ্ঠা বোধ করছিলেন। তাই তিনি নিজে সব বাড়িতে গিয়ে প্যাকেট দিয়ে এসেছেন।

বন্ধ করুন