বাংলা নিউজ > ময়দান > মাত্র ৪৪ বছরে জীবন যুদ্ধে হার প্রশান্ত ডোরার, হাসি মুখটা দেখতে পাবে না ময়দান
প্রশান্ত ডোরা। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)
প্রশান্ত ডোরা। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

মাত্র ৪৪ বছরে জীবন যুদ্ধে হার প্রশান্ত ডোরার, হাসি মুখটা দেখতে পাবে না ময়দান

  • যে মানুষটা তেকাঠির নীচে দাঁড়িয়ে কলকাতার তিন প্রধানকে অসংখ্যবার রক্ষা করেছেন, জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন সেই প্রশান্ত ডোরা।

মুখে সবসময় একটা দীপ্ত হাসি লেগেই থাকত। সেই হাসিকে সঙ্গী করেই লড়াই করতেন মাঠে। গত আড়াই মাস ধরে সেই লড়াইটা চলছিল হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। যে মানুষটা তেকাঠির নীচে দাঁড়িয়ে কলকাতার তিন প্রধানকে অসংখ্যবার রক্ষা করেছেন, জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন সেই প্রশান্ত ডোরা। মাত্র ৪৪ বছরের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি।

অনেকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু জ্বর না কমায় তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। কমতে থাকে রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা। প্রাথমিকভাবে তাঁর রোগ নির্ণয় করা যায়নি। তারপর তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। জানা যায়, অতি বিরল হেমোফাগোসিটিসি লিম্ফহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) রোগে আক্রান্ত প্রশান্ত। প্রয়োজন ছিল রক্তের। ক্রমশ কমতে থাকে প্লেটলেট। ভাইয়ের জন্য রক্ত জোগাড়ের আর্জি জানান দাদা প্রশান্ত ডোরাও। রক্তের সন্ধান শুরু করেন স্ত্রী সৌমিও। বিভিন্ন ফ্যান ক্লাবের রক্ত জোগাড়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি আর। মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৪০ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রশান্ত।

আদতে হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা চুটিয়ে খেলেছেন কলকাতার তিন প্রধানে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং - যে ক্লাবেই খেলেছেন, সেখানকার সমর্থকদের মণিকোঠায় জায়গা নিয়েছেন। নিজেকে এক অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। স্রেফ দু'হাতের জাদুতে কত ম্যাচে যে দলকে উতরে দিয়েছেন, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। ১৯৯৯ সালে তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল। তারপর ভারতের জার্সি গায়ে সাফ কাপ, সাফ গেমস, এশিয়া কাপ, প্রি-ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ারে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। খেলোয়াড় জীবনের শেষ লগ্নে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, জেসিটির জার্সিও গায়ে চাপিয়েছিলেন। খেলতে খেলতে চাকরি পেয়েছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তবে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও ময়দান ছেড়ে থাকতে পারেননি। ছোটোদের প্রশিক্ষণ দিতেন। সেভাবেই কাটছিল। কিন্তু এক লহমায় সব শেষ হয়ে গেল।

প্রশান্তের প্রয়াণের খবর ময়দানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুহ্যমান অসংখ্য অনুরাগীরাও। কয়েক বছর আগে গোলাপি জার্সি পরে যে মানুষটা একটা প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন, তিনি যে আর নেই, তা ভাবতেও পারছেন না কেউ।

বন্ধ করুন