বাড়ি > ময়দান > সতীর্থরা আমার সামনেই ডিনারে যাওয়ার পরিকল্পনা করত, আমাকে বাদ দিয়ে, বর্ণবিদ্বেষের বেদনাদায়ক কাহিনি শোনালেন এনতিনি
মাখায়া এনতিনি। ছবি- গেটি ইমেজেস।
মাখায়া এনতিনি। ছবি- গেটি ইমেজেস।

সতীর্থরা আমার সামনেই ডিনারে যাওয়ার পরিকল্পনা করত, আমাকে বাদ দিয়ে, বর্ণবিদ্বেষের বেদনাদায়ক কাহিনি শোনালেন এনতিনি

একাকীত্বের অনুভূতি থেকে পালিয়ে বাঁচতেই টিম বাস এড়িয়ে যেতেন প্রাক্তন প্রোটিয়া পেসার।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে বর্ণবাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। শুরু থেকেই চলে আসছে সাদা-কালোর ভেদাভেদ। জাতীয় দলের হয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটাররা একসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করলেও বিভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে মাঝে মধ্যেই।

এই অবস্থায় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ক্যাম্পেনের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বেশ কিছু প্রোটিয়া ক্রিকেটার। বর্ণবাদের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার মাখায়া এনতিনি নিজের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তিনি জানালেন, জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কাটালেও কীভাবে তাঁকে কার্যত সারা জীবন একাকীত্বে ভুগতে হয়েছে।

এনতনি বলেন, ‘আমি চিরকাল একাকীত্বে ভুগেছি। কেউ কখনও ডিনারে যাওয়ার জন্য আমার দরজায় টোকা দেয়নি। সতীর্থরা আমার সামনেই পরিকল্পনা করত, অথচ আমাকে বাদ দিয়ে। যখন ব্রেকফাস্ট টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতাম, কেউই আমার পাশে এসে বসত না।’

এনতিনি আরও জানান, তিনি একাকীত্ব লুকোতেই টিম বাস এড়িয়ে চলতেন। স্টেডিয়ামে যেতেন একা। কারণ, কখনও তিনি টিম বাসের পিছনে গিয়ে বসলে, বাকিরা সামনের সিটে এগিয়ে যেতেন।

অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে এনতিনি বলেন, ‘আমরা একই জার্সি পরে মাঠে নামতাম। একই জাতীয় সঙ্গীত গাইতাম। তা সত্ত্বেও দলের মধ্যে আমি একা ছিলাম। দলের জয় সবসময় আনন্দের। তবে হারলে সবার আগে দোষ পড়ত আমার ঘাড়ে। আমি কেন টিম বাস এড়িয়ে চলতাম, কেউ কখনও জানতে চায়নি। আসলে আমি একাকীত্বের অনুভূতি থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইতাম। একাকীত্বের সঙ্গে আপোষ করে নিয়েছিলাম।’

বন্ধ করুন