বাংলা নিউজ > ময়দান > 'আমাকে একা থাকতে দাও', অলিম্পিক্সে পরাজয়ের পর মানসিক স্বাস্থ্য, ওজন হ্রাস ও করোনায় জেরবার ভিনেশ ফোগাটের করুণ আকুতি
লড়াইয়ে ভিনেশ ফোগাট। ছবি- রয়টার্স (REUTERS)
লড়াইয়ে ভিনেশ ফোগাট। ছবি- রয়টার্স (REUTERS)

'আমাকে একা থাকতে দাও', অলিম্পিক্সে পরাজয়ের পর মানসিক স্বাস্থ্য, ওজন হ্রাস ও করোনায় জেরবার ভিনেশ ফোগাটের করুণ আকুতি

  • অলিম্পিক্সে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেন ভিনেশ।

টোকিও অলিম্পিক্সে ভারতের পদকজয়ের অন্যতম বড় দাবিদার ছিলেন ভিনেশ ফোগাট। তবে হতাশাজনকভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেই বিদায় নিতে হয় তাঁকে। এরপরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ফেডারেশন থেকে তাঁকে বহিষ্কৃত করা হয়, পরাজয়ের পর সমালোচনার ঝড়ও ধেয়ে তাঁর দিকে। এতদিনে সেইসব নিয়ে মুখ খুললেন তারকা কুস্তিগীর।

ভারতীয় অ্যাথলিটের সঙ্গে অনুশীলন করতে অস্বীকার, দেশের জার্সি না পরেই ম্যাটে নামা, করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনায় দলের বাকিদের সঙ্গে গেমস ভিলেজে থাকত মানা, তারকা অ্যাথলিটের বিরুদ্ধে অভিযোগের এক লম্বা তালিকা রয়েছে ফেডারেশনের কাছে। ভিনেশ টিম খেলোয়াড় নয়, ফেডারেশনের এই উক্তিটি একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না কুস্তিগীর। বরং তাঁর দাবি তিনি দলের বাকিদেরকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার থেকে বাঁচাতেই আলাদা থাকতে চান।

‘প্রথমবার আমি অগস্টে করোনা আক্রান্ত হই। কাজাখস্তানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ফেরার পর আমি দ্বিতীবার করোনাকর কবলে পড়ি। আমি সুস্থ হয়ে বুলগেরিয়ায় রওনা দিলেও এরপর আমার পরিবার করোনা আক্রান্ত হয়। এরপরেও কি আমার বাকি অ্যাথলিটদের সঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত ভুল, সাতদিনের জন্য ওদের প্রত্যহ টেস্ট করা হলেও আমার কিন্তু তা হত না।’ জানান ভিনেশ।

করোনা হওয়ার পর থেকে তিনি কোনরকমের প্রোটিন খেতে পারছেন না বলে জানান ভিনেশ ফোগাট। প্রোটিন খেলেই,তা বমি হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশপাশি ২০১৯ সালে নিজের ওজন বিভাগ বদলানোর পর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবি তাঁর। 

‘আমি একজন সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলি। আমার কথা বলাটা খুব জরুরি ছিল। পরিবারের সকলেই আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে, তবে আমি সবটা ওদের বলে বোঝাতে পারব না। আমি আমার সাইকোলজিস্টকে জানাই যে আমি খুবই আবেগপ্রবণ। তবে শুধুমাত্র তার সঙ্গে কথা বললেই তো সবটা ঠিক হয়ে যায় না। আমি ঠিক করে কাঁদতেও পারিনি। মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। আমাকে নিজের হারের দুঃখটুকু করার সময় দেয়নি কেউ, তার আগেই সকলে দোষারোপ করতে প্রস্তুত ছিল।’ দাবি ২৬ বছর বয়সী কুস্তিগীরের।

ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করে অবশেষে এখা থাকতে দেওয়ার আর্জি জানান ভিনেশ। ‘আমরা সিমোনে বাইলসকে নিয়ে মাতামাতি করি যে ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সর্বসমক্ষে কথা বলেছে। ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো তো দূর, ভারতে অলিম্পিক্সের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই কথাটা বলাও মানা। আমি কখনোই আমাকে গোল্ড মেডেল জয়ের ফেভারিট করতে বলিনি। আমি নিজের জন্য লড়ি এবং পরাজয়ের পর আমার নিজের সবথেকে খারাপ লেগেছে। তবে আমি এর সঙ্গে লড়াই করতে দিয়ে দয়া করে একটু একা থাকতে দিন’ কাতর আর্জি ভিনেশের।  

বন্ধ করুন