সবে মাত্র জুনিয়র ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। একঝলক দেখেই রত্ন চিনতে ভুল হয়নি জহুরির। সেদিনই সম্ভাবনাময় এক লিটল মাস্টারকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন কিংবদন্তি এক লিটল মাস্টার। পরবর্তী সময়ে সেই জুনিয়র তারকাই ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ হয়ে দেখা দেন।

সময়টা ছিল ১৯৮৭-র ঘরোয়া মরশুম শুরুর ঠিক আগের। ১৪ বছরের সচিন তেন্ডুলকর তৎকালীন বম্বে ক্রিকেটমহলে ছেয়ে গিয়েছিলেন প্রভাবশালী পারফর্ম্যন্স দিয়ে। গোটা মরশুমে দুরন্ত পারফর্ম্যান্স করলেও সেবার রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার তরফে বর্ষসেরার পুরস্কার জোটেনি সচিনের।

একজন উঠতি ক্রিকেটারের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার যন্ত্রণা ভালোমতোই বুঝেছিলেন সুনীল গাভাসকর। মরশুমের শেষে তিনি ভালো খেলার জন্য অভিনন্দন জানাবেন ভাবলেও নিজের ইচ্ছাকে সংবরণ করেন। তবে নতুন মরশুম শুরুর আগে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি সানি। সচিন তেন্ডুলকরকে নিজের হাতে একটি চিঠি লেখেন তিনি।

চিঠিতে গাভাসকর তেন্ডুলকরকে লেখেন, 'আমি আগেই লিখব ভেবেছিলাম। তবে কোনও কারণে লেখা হয়নি। পরে আমার মনে হয় মরশুমের শেষে লেখার থেকে নতুন মরশুম শুরুর আগে লেখাই ঠিক হবে। গত মরশুমের পারফর্ম্যান্সের জন্য তোমাকে অভিনন্দন। সব থেকে চমকপ্রদ ছিল, যখন বাকিরা খুব বেশি সাহায্য করতে পারেনি, তখন তুমি একা ব্যাট করে গিয়েছ। এভাবেই চালিয়ে যাও।'

পরক্ষণেই সানি তেন্ডুলকরকে একটি পরামর্শ দেন। তিনি লেখেন, 'দয়া করে নিজের পড়াশোনাকে আগ্রাহ্য কোরো না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যে কোনও পেশাতেই থাকো না কেন, যখন খারাপ সময় আসবে, তখন শিক্ষাটাই তোমাকে সেটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এগিয়ে যাও। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।'

পুনশ্চয় সানি যেটা লেখেন, সেটা বোধহয় গোটা চিঠির থেকেও বেশি করে উদ্দীপ্ত করে সচিনকে। তিনি লেখেন, 'বিসিএর কাছে থেকে সেরা জুনিয়র ক্রিকেটারের পুরস্কার না পেয়ে হতাশ হওয়ার দরকার নেই। কারণ, তুমি যদি সেরার তালিকায় চোখ বোলাও, তবে দেখবে একটা নাম নেই, যে টেস্ট ক্রিকেটে নেহাৎ মন্দ পারফর্ম করে নি।'

গাভাসকর যে এক্ষেত্রে নিজের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় সচিনের।

বন্ধ করুন