বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > না জানিয়ে বিধায়করা কোথাও যেতে পারবেন না, শুভেন্দুকে ‘রুখতেই’ কি ‘ফতোয়া’ দিলীপের?
শুভেন্দুকে ‘রুখতে’ কি ‘ফতোয়া’ দিলীপের? (ফাইল ছবি, সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)
শুভেন্দুকে ‘রুখতে’ কি ‘ফতোয়া’ দিলীপের? (ফাইল ছবি, সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)

না জানিয়ে বিধায়করা কোথাও যেতে পারবেন না, শুভেন্দুকে ‘রুখতেই’ কি ‘ফতোয়া’ দিলীপের?

  • এক বিধায়ক জানিয়েছেন, দলের মধ্যে ‘শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার জন্যই সেই বার্তা দিয়েছেন দিলীপ।

রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়ে বিধায়করা কোথাও যেতে পারবেন না। শনিবার ৭৫ জন বিধায়কের সঙ্গে একটি ওয়ার্কশপে এমনই ফতোয়া জারি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নাম গোপন রাখার শর্তে এমনই জানিয়েছেন এক বিজেপি বিধায়ক।

নব-নির্বাচিত সেই বিধায়ক জানিয়েছেন, দলের মধ্যে ‘শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার জন্যই সেই বার্তা দিয়েছেন দিলীপ। তাঁর কথায় ‘দিলীপ আমাদের জানিয়েছেন, কোনও বিধায়কই দলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁরা একটি সংগঠনের অংশ। তাই রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়ে নিজেদের পছন্দমতো কোথাও যেতে পারবেন না।’

কিন্তু কেন আচমকা ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন দিলীপ, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্ভবত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর রাশ টানতেই সেই কড়া দাওয়াইয়ের পথে হেঁটেছেন দিলীপ। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি দিল্লি সফরে শুভেন্দু ও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার পর্বের জেরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে। হাতে সুযোগ পেয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ঠিক কী হয়েছিল তখন? দিনকয়েক আগে দিল্লি সফরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের বাড়িতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। গিয়েছিলেন সলিসিটর জেনারেলের বাড়িতেও। যিনি নারদ মামলায় সিবিআইয়ের আইনজীবী। আর শুভেন্দু হলেন নারদকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত। সেই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে স্বভাবতই আসরে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। সলিসিটর জেনারেলের পদ থেকে মেহতার অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লেখে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর ছিল সুখেন্দুশেখর রায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মেহতাকে বিবৃতি দিয়ে দাবি করতে হয়, যে বৈঠক নিয়ে এত চর্চা, সেই বৈঠকই হয়নি। তবে আগেভাগে না জানিয়ে শুভেন্দু তাঁর বাসভবন-অফিসে গিয়েছিলেন। তাঁর জন্য অপেক্ষাও করেছিলেন। সেই সাফাইয়ে অবশ্য কোনও লাভ হয়নি। যথারীতি আক্রমণ শানিয়ে যেতে থাকে তৃণমূল।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখে ‘মেদিনীপুরের ছেলে’ বলে নিজেদের দাবি করলেও শুভেন্দু ও দিলীপের ‘দূরত্ব’ বিস্তর এবং তা আগে থেকেই হয়েছে। সলিসিটর জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকের বিতর্কের মধ্যে দিলীপ জানিয়েছিলেন, কেন শুভেন্দু দিল্লিতে গিয়েছেন এবং কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। শুধু তাই নয়, বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবারের বিধায়কদের ওয়ার্কশপে দিলীপ থাকার সময় আসেননি শুভেন্দু। দিলীপ বেরিয়ে যাওয়ার পরই ওয়ার্কশপে আসেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

বন্ধ করুন