বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বামফ্রন্ট–কংগ্রেসের বৈঠকে সমাধানসূত্র অধরা, বিশ বাঁও জলে আসন সমঝোতা
বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

বামফ্রন্ট–কংগ্রেসের বৈঠকে সমাধানসূত্র অধরা, বিশ বাঁও জলে আসন সমঝোতা

  • জট কাটাতে রাতেই সিপিআইএম নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

বছর ঘুরলেই চারটি পুরসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। তারপর বাকি পুরসভাগুলির নির্বাচন করতে চায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সদ্য কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলে অক্সিজেন পেয়েছে বামফ্রন্ট। তারা জোট না করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এবারও তা করা হবে তবে আসন সমঝোতা করে। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেই এগোতে চান তাঁরা। কিন্তু এগোতে গিয়েই জট! কারণ দু’‌পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, তাতে স্থির হয়েছিল কংগ্রেসকে অন্তত ১৫টি আসন ছাড়বে বামফ্রন্ট। সেখানে প্রথম দফায় ৪৭টির মধ্যে বামফ্রন্ট ৩৫টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তাতেই জট পাকিয়েছে। জট কাটাতে রাতেই সিপিআইএম নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। বৈঠকে ছিলেন জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার, সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, জেলা কংগ্রেস (সমতল) সভাপতি শঙ্কর মালাকার, প্রাক্তন কংগ্রেসের মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত।

কী হল এই বৈঠকে?‌ জানা গিয়েছে, দু’‌পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। এটি একটি নিষ্ফলা বৈঠক। আজ, বুধবার আবার দু’‌পক্ষ আলোচনায় বসবে। সেখানে এই আসন সমঝোতাই প্রধান অ্যাজেন্ডা থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিকে হারানোর স্ট্র‌্যাটেজি নিয়েও আলোচনা হবে বলে খবর। এই বৈঠকে উঠে আসে ২০১৫ সালে জেতা আসন থেকে লড়বে সংশ্লিষ্ট দুই দল। আর যাঁরা জয়ী হয়েছিল তাঁরাই লড়বেন ওই ওয়ার্ড থেকে।

এখন তৈরি হওয়া জট ছাড়িয়ে আসন সমঝোতা হয় কিনা সেদিকেই তাকিয়ে দুই দলের নীচুতলার কর্মী, সমর্থকরা। এই উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে সিপিআইএমের জেলা নেতৃত্ব এবং জেলা বামফ্রন্টের বৈঠক হয়। তার পরই বামেরা ঘোষণা করে ৩৫ আসনের প্রার্থী তালিকা। এই বিষয়ে জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার বলেন, ‘‌ওরা সকালে আসেনি। আমাদের দলীয় এবং ফ্রন্টস্তরে বৈঠক করেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যা সমস্যা আছে, তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে।’‌ জেলা কংগ্রেস সভাপতি শঙ্কর মালাকার বলেন, ‘‌বৈঠক ভালোই হয়েছে। কিছু জট রয়েছে। তা বুধবার বৈঠকে বসে চূড়ান্ত করা হবে।’‌

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠেকাতে কংগ্রেসকে বাইরে থেকে সমর্থন করেছিল বামফ্রন্ট। ২০১৫ সালে বামফ্রন্টের বোর্ডকে বাইরে থেকে সমর্থন করেছিল কংগ্রেস। তখন থেকেই শিলিগুড়িতে দুই দলের সমঝোতা রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য টেলিফোন করে অশোক ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন, দলকে জেতাতে শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে। তার জন্য বামফ্রন্টের প্রার্থীও দিতে বলেন তিনি।

বন্ধ করুন