বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বাংলাদেশে MNREGA তহবিলের অর্থ পাচারের অভিযোগ, ফেরার তৃণমূল পঞ্চায়েত নেতা
MNREGA তহবিল তছরুপে অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল উপ-প্রধানের দিকে।
MNREGA তহবিল তছরুপে অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল উপ-প্রধানের দিকে।

বাংলাদেশে MNREGA তহবিলের অর্থ পাচারের অভিযোগ, ফেরার তৃণমূল পঞ্চায়েত নেতা

  • অভিযোগ, তৃণমূল শাসিত গুড়াপশলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান শামসুল আরফিন তাঁর আত্মীয়দের নামে ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের মনরেগা (MNREGA) কর্মীদের জন্য তহবিলে জমা পড়া ৭ লাখ টাকার কিছু অংশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে। সরকারি তহবিল তছরুপের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল উপ-প্রধানের দিকে।

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে, নবগ্রাম থানার অন্তর্গত তৃণমূল শাসিত গুড়াপশলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান শামসুল আরফিন তাঁর আত্মীয়দের নামে ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

অভিযোগ, একই ব্যক্তির নাম পালটে ভিন্ন নামে নানান এলাকায়  একাধিক জব কার্ড তৈরি করা হয়েছে। তহবিলের অর্থ তোলা হয়েছে ব্যাঙ্ক ও ডাকঘর থেকে। টাকা তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে এটিএম কার্ডও।

জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেন প্রাক্তন বিডিও। অন্তর্বর্তী তদন্তে জানা যায়, আর্থিক প্রতারণায় জড়িত ছিলেন আরফিন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক জন কর্মী। 

প্রাক্তন বিডিও পুলিশে অভিযোগ জানানোর ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও তার বরে এক বছর কেটে গেলেও তদন্তে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি। এফআইআর-এর কপি ও অর্থ প্রাপক বাংলাদেশি নাগরিকদের নামের তালিকা হিন্দুস্তান টাইমস-এর গোচরে এসেছে।

প্রসশাসনিক সূত্রে খবর, এফআইআর-এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন আরফিন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। অনেক চেষ্টা করেও এই বিষয়ে আরফিনের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

নবগ্রামের বর্তমান বিডিও পঙ্কজ দাস জানিয়েছেন, ‘দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পরে জানতে পারি, প্রাক্তন বিডিও অন্তর্বর্তী তদন্ত সম্পূর্ণ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নবগ্রাম থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৮৬, ৪০৬, ৪০৯, ৪২০ ও ৩৪ নম্বর ধারায় এফআইআর দায়ের করেন। তদন্ত শেষ করে আইনি পদক্ষেপ করার কাজ পুলিশের। পুলিশ কেন কাউকে গ্রেফতার করেনি, আমি বলতে পারব না।’

মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল মুখপাত্র অপূর্ব সরকারের যুক্তি, ‘যদি সরকারি তহবিল তছরুপে উপ-প্রধান যুক্ত থাকেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে প্রশাসন। আমরা তাঁকে আড়াল করব না।’

নবগ্রাম ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মির বাদাম আলি বলেন, ‘কয়েক জন কর্মীর সাহায্যে আরফিন সরকারি তহবিল তছরুপ করেছেন। জব কার্ডে উল্লিখিত কয়েক জন নাবালকের নামও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের আর্থিক মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া হল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত উপপ্রধান আপাতত ফেরার।

বন্ধ করুন